ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল ওরফে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন। তার সঙ্গে সহযোগী আলমগীর হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

রোববার ভোররাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) এই অভিযান চালায়। এ ঘটনা দীর্ঘ তিন মাসের পলাতক জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ আইনি প্রক্রিয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল করিম মাসুদের খোঁজে ছিল বাংলাদেশ পুলিশ। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহী হামলাকারীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ফয়সাল করিম মাসুদকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযোগপত্রে ফয়সালকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার পর ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। স্থানীয় সহায়তায় তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। গত কয়েক মাসে তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে বনগাঁওয়ে ফিরে আসেন—সম্ভবত বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে। এসটিএফের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ভারতীয় আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এই গ্রেফতার বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির খবর। হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফয়সালের গ্রেফতারে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। তার মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একপর্যায়ে তার ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে ৬৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ হয়, এবং লেনদেনের পরিমাণ ১২৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে তথ্য উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অপরাধমূলকভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

আজ রোববার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযুক্তকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। এ ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনের ক্ষতচিহ্নগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

মামলার বাদী বিএনপির রমনা থানা সভাপতি আশরাফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৩ ও ৫০৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধারাগুলো মানহানি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং ইচ্ছাকৃত অপমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাদী দাবি করেছেন, নির্বাচনের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ ফেসবুকে এমন কিছু পোস্ট প্রকাশিত হয়, যা বাদী দেখে মামলার সিদ্ধান্ত নেন।

এই মামলার পটভূমি গড়ে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন, যেখানে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন। ফলাফলে মির্জা আব্বাস প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। নির্বাচনের আগে ও পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলে। পাটওয়ারী একাধিকবার ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি তিনি মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদনও করেন। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারের সময় পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে, যার জন্য তিনি মির্জা আব্বাস ও তারেক রহমানের অনুসারীদের দায়ী করেন।

এই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে মানহানির মামলা এখন আইনি লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় যোগ করল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপির উত্থান এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। নির্বাচনের পর এনসিপি নেতারা বারবার সরকার ও বিএনপির সমালোচনা করে আসছেন, যা ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

শনিবার ছুটির দিন হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শপথ নেওয়ার পর এটি টানা তৃতীয় শনিবার যখন তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে কাজ করলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও কার্যালয়ে ছিলেন।

এই ঘটনা নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডের একটা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করেছে। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকার, যা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে ক্ষমতায় এসেছে। শপথের পর প্রথম সপ্তাহেই তিনি কার্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ছুটির দিনও কাজের দিন—যদি দেশের প্রয়োজন হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই অভ্যাস অনেকের কাছে নতুনত্ব এনেছে। অতীতে শনিবার ছুটির দিন হিসেবে পরিচিত ছিল, বিশেষ করে সরকারি অফিসে। কিন্তু তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তিনি কর্মক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সূত্র জানায়, এদিন তিনি জনপ্রশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং শিক্ষা খাতের প্রাথমিক পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চান যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কোনো বিলম্ব যেন না হয়। ছুটির দিনেও কাজের এই ধারা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সবকিছু স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।”

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জনকল্যাণমুখী সংস্কারের কথা বলেছে। শপথের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর এমন কর্মতৎপরতা দেখে অনেকে বলছেন, এটি একটা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুরু। অতীতে সরকারি কার্যালয়ে ছুটির দিনে নীরবতা থাকত, কিন্তু এখন আলো জ্বলছে, বৈঠক চলছে—যা জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ দলীয় নেতা-কর্মীদেরও উদ্বুদ্ধ করবে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফিরে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান এখন প্রমাণ করতে চান যে, তিনি শুধু নেতা নন, একজন কর্মীও। এদিনের অফিস কর্মকাণ্ডে উপস্থিত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “এটা শুধু অফিস করা নয়, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৭ মার্চ) তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত’ হানা হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে এবং আর হামলা চালাবে না।

এই হুমকি এসেছে যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা তীব্রতর হচ্ছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশীদের প্রতি অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের পোস্টে স্পষ্ট যে, তিনি ইরানের এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবিরাম চাপের ফল বলে মনে করছেন। তিনি লিখেছেন, “ইরান আজ কঠোরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হবে! ইরানের খারাপ আচরণের কারণে এমন এলাকা ও গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ থেকে ‘লুজার’-এ পরিণত হয়েছে এবং এটি দশকের পর দশক চলবে যতক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।

এই হুমকির পেছনে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য। পেজেশকিয়ান শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না এলে আর হামলা চালাবে না ইরান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে, যেখানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি ট্রাম্পের ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার’ দাবিকে ‘কবরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দেন।

যুদ্ধ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ দিয়ে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইসহ শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। ইরান প্রতিশোধে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শনিবার ভোরে তেহরানে বিস্ফোরণের খবর এসেছে; ইসরায়েল ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের এই পোস্ট যুদ্ধকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কথা বলেছেন, যা বেসামরিক এলাকা বা নতুন গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেশীদের প্রতি শত্রুতা নেই, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না এলে আর কোনো হামলা চালাবে না ইরান। শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ এই নীতির অনুমোদন দিয়েছে বলে তিনি জানান। সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে প্রতিবেশীদের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।

এই ঘোষণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন—মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, কারণ সেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এতে বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তেহরান এখন অঞ্চলের রোষ থেকে বাঁচতে চায় এবং যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত হতে দিতে চায় না। তিনি একটি প্রাক-রেকর্ডেড ভাষণে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাই যারা আমাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আমরা দুঃখিত যে প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করতে হয়েছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো। আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই।” এই বক্তব্যে ইরানের দ্বৈত নীতি ফুটে উঠেছে—একদিকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান, অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ‘আনকন্ডিশনাল সারেন্ডার’ দাবিকে “কবরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, আইআরজিসি সদর দপ্তর এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। ইরান প্রতিশোধে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা করে, যা অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এখন ইরানের এই পদক্ষেপকে কেউ কেউ ডি-এসকেলেশনের চেষ্টা বলছেন, আবার কেউ বলছেন এটি চাপের মুখে পিছু হটা। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের অনুমোদন দেখিয়ে দেয় যে, এটি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শনিবার জানিয়েছে, তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামোতে আরও এক দফা সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

বিএনপি জাতীয় সংসদের পুরনো নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন, গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন সংসদ অধিবেশন দেখে জাতি স্বস্তি পাবে এবং বলবে—এমন সংসদই তারা দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেয়েছিল।

এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন খুব কাছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি এখন সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অনেক নতুন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন। তাদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মশালায় সংবিধান, সংসদীয় নিয়মাবলি, বিল-বাজেট পর্যালোচনা, স্থায়ী কমিটির কার্যপ্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারিক রহমান নিজে উদ্বোধন করেছেন এই কর্মসূচি।

সালাহউদ্দিন আহমদের কথায় স্পষ্ট যে, বিএনপি অতীতের সংসদীয় অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদকে অনেকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বা ‘একদলীয় আলোচনার মঞ্চ’ হিসেবে দেখে এসেছে। বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ, হট্টগোল, ওয়াকআউট—এসবের কারণে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা কমেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নেতিবাচক চক্র ভাঙতে হবে। নতুন সংসদে আলোচনা হবে গঠনমূলক, বিতর্ক হবে যুক্তিভিত্তিক এবং সিদ্ধান্ত হবে জনকল্যাণমুখী। তিনি যোগ করেন, “জাতি এখন এমন একটি সংসদ দেখতে চায় যেখানে সব দলের কথা শোনা হয়, যেখানে সমালোচনা হয় সম্মানের সঙ্গে এবং যেখানে দেশের স্বার্থ সবার ওপরে।”

এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুধু নিয়মকানুন শেখানোর জন্য নয়, বরং একটা নতুন মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়াস। প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য এটি একটা সুযোগ—তারা শিখছেন কীভাবে সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন করা যায়। অভিজ্ঞ নেতা, সাবেক আমলা ও শিক্ষাবিদরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে। ফলে কোনো ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই, এবং জনগণকে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় গুজবে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের জ্বালানি খাতে একটা স্বস্তির হাওয়া বয়ে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ চেইনের সমস্যার কারণে তেলের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশে এর প্রভাব পড়েছে, যা ফলে পাম্পে তেলের সরবরাহ নিয়ে কিছু গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, “দেশের মজুত এমন পর্যায়ে রয়েছে যা চাহিদা পূরণ করতে যথেষ্ট। আগামী দিনগুলোতে আরও সরবরাহ আসছে, তাই আতঙ্কের কোনো সুযোগ নেই।” তাঁর এই কথা জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনীতি মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বছরে প্রায় ৮০ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আসে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। সাম্প্রতিককালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মতো ঘটনা এবং ওপেকের সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন খাতে চাপ পড়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিয়মিত মজুত পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমদানি চুক্তি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী জাহাজ দুটিতে প্রায় ৫০ হাজার টন তেল থাকবে, যা দেশের চাহিদা আরও মজবুত করবে।

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের গুজব প্রায়ই অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের শেষ দিকে একই ধরনের গুজবে পাম্পে লম্বা লাইন পড়েছিল, যা অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের ফল। কিন্তু এবার সরকারের সময়োচিত ঘোষণা সেই পথ রুখে দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. রহমান আলী বলেন, “মজুতের সঠিক তথ্য প্রকাশ করে সরকার জনগণের আস্থা বজায় রাখছে। এটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।” তবে তিনি যোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সৌর এবং বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎসে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি ঘোষণা করেছেন, দেশটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো অদেখা নতুন প্রজন্মের কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন করা হবে। প্রেস টিভির খবর অনুসারে, এই বিবৃতি এসেছে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যেখানে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাত চলমান।

আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, এ পর্যন্ত ইরানের সামরিক অভিযানে দেশের প্রকৃত সক্ষমতার মাত্র একটি ছোট অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর মতো পাল্টা হামলায়ও এটি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলোতে প্রতিপক্ষকে প্রতিটি পর্যায়ে ‘কঠিন ও বেদনাদায়ক আঘাত’ সহ্য করতে হবে। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত, যা এখনো বড় আকারে যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হয়নি।

এই বিবৃতির পটভূমিতে রয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান, যা ইরানের নেতৃত্ব, মিসাইল সাইট ও আইআরজিসি ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে। ইরানের পাল্টা হামলায় ‘ট্রু প্রমিস’ সিরিজের অংশ হিসেবে মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার হয়েছে। নাঈনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি বর্তমান সংঘাতকে ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আইআরজিসি-র এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান হয়তো হাইপারসনিক মিসাইল, উন্নত ড্রোন সোয়ার্ম বা অন্যান্য অদেখা প্রযুক্তির কথা বলছেন। ইরানের মিসাইল কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত, এবং এরা দাবি করে যে তাদের অস্ত্রশস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। তবে পশ্চিমা সূত্রগুলো এসব দাবিকে প্রায়ই অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দেয়।

যুদ্ধের এই পর্যায়ে ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ‘নির্ণায়ক প্রতিক্রিয়া’-র হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন, কারণ যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তেলের দাম, শিপিং রুট ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা চলছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম। প্রাথমিক ফলাফলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ব্যাপকভাবে এগিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের এই দল ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে ছাপিয়ে গেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে যুবকদের নেতৃত্বে দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারকে পতন ঘটায়। এই আন্দোলনে ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে বদলে দেয়। তরুণরা দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়ে। এই পটভূমিতে ৫ মার্চের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচন করে।

প্রাথমিক গণনায় আরএসপি ৪৭টি আসনে এগিয়ে, যা গণনাকৃত ৫৭টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। দলটি কাঠমান্ডু-১, কাঠমান্ডু-৭ এবং কাঠমান্ডু-৮-এ ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী দলগুলো পিছিয়ে—নেপালি কংগ্রেস ৫টিতে, সিপিএন (ইউএমএল) ৩টিতে এবং অন্যান্য দলগুলো সীমিত সাফল্য পেয়েছে। এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের প্রভাব দেখায়, যারা দুর্নীতিমুক্ত শাসন চায়।

আরএসপির হেভিওয়েট প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র। ৩৫ বছর বয়সী এই র‌্যাপার-রাজনীতিবিদ ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোকে হারান। অভ্যুত্থানের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের সমর্থন করেন, যা তাকে তরুণদের নেতায় পরিণত করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেয়র পদ ত্যাগ করে আরএসপিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে প্রজেক্ট করা হয়। তিনি কেপি শর্মা ওলির মতো প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং টেলিভিশন সাংবাদিক। লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২২ সালে আরএসপি গঠন করেন এবং দুর্নীতি-বিরোধী অ্যাজেন্ডায় ফোকাস করেন। সম্প্রতি সমবায় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে কারাবাস করলেও অভ্যুত্থানের সময় মুক্তি পান এবং দলে ফিরে আসেন।

আরএসপির উত্থান নেপালের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করে। দলটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায় এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর ব্যর্থতার ফল। তরুণরা, যারা ভোটারদের বড় অংশ, নতুন নেতৃত্ব চায়। নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করে, যা অভ্যুত্থানের প্রভাব দেখায়।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশনে মানুষের ভিড় বেড়েছে, প্যানিক বাইং শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রত্যেক যানবাহনের জন্য দৈনিক তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে।

এই নির্দেশনা জারির পেছনে মূল কারণ হলো অযৌক্তিক মজুতদারি রোধ করা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকে অতিরিক্ত তেল কিনে ঘরে মজুত করছেন, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। বিপিসি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই সীমা আরোপ না করলে স্বল্পমেয়াদে স্টক কমে যেতে পারে, যদিও বর্তমান মজুত স্বল্পমেয়াদের জন্য যথেষ্ট।

বিপিসির নির্দেশনা অনুসারে, মোটরসাইকেল চালকরা দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবেন। ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেট কার) জন্য সীমা ১০ লিটার। এসইউভি বা জিপ ধরনের যানবাহন এবং মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল দেওয়া যাবে দৈনিক। পিকআপ বা লোকাল বাস পাবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক সীমা ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

এই পদক্ষেপের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পরিস্থিতি অস্থির হওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফ্রেইট খরচ বাড়ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ইত্যাদি। যদিও বিপিসি চেয়ারম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমান মজুত ডিজেলের জন্য ১৪-১৫ দিন, পেট্রলের জন্য ১৫-১৭ দিন, অকটেনের জন্য ২৮-৩১ দিনের মতো আছে এবং কয়েকটি চালান পথে রয়েছে, তবু জনগণের আতঙ্ক সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সীমা আরোপ অস্থায়ী ব্যবস্থা। সরকার ইতিমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে—ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানো ইত্যাদি। রমজান ও ঈদের সময় এই সংকট আরও জটিল হতে পারে, কারণ পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের চাহিদা বাড়ে।