দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ‘নৌকা’ অদৃশ্য হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে এক নির্বাচনি গণসংযোগে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও। সোমবার দুপুরে বেগুনবাড়ি বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ করেন। তিনি বলেন, অতীতে ভোটের লড়াই ছিল মূলত ‘নৌকা’ আর ‘ধানের শীষে’র মধ্যে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মাঠ থেকে নৌকার কোনো চিহ্ন নেই, কারণ তাদের প্রধান নেত্রীই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
ফখরুল অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা কেবল ক্ষমতা হারাননি, বরং তার দলের তৃণমূলের কর্মীদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নৌকার কাণ্ডারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপনাদের ফেলে ভারতে চলে গেছেন, এখন দিল্লিতে বসে আছেন। তিনি থাকলে অন্তত দেশে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার সুযোগ থাকতো, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালন না করে পালিয়ে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছেন।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব বেশ আক্ষেপের সুরে বলেন, শেখ হাসিনার এই চলে যাওয়া তাদের দল বা জোটকে যতটা না ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে। তিনি মনে করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে অবস্থান করাটা একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পলায়নপর এই রাজনীতি সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য কেবল বিপদই ডেকে এনেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা স্মরণ করে ফখরুল বলেন, “আমরা লড়াই করছি দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। আর যারা ক্ষমতার দম্ভে ধরাকে সরা জ্ঞান করত, তারা আজ দেশান্তরী।


