TT Ads

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ব্রিটেনের দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের (জেআরএফ) ‘ইউকে পভার্টি ২০২৬’ রিপোর্ট অনুসারে, দেশটিতে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ এখন ‘অত্যন্ত গভীর দারিদ্র্যে’ নিমজ্জিত, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই সংকটের কারণে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এই প্রতিবেদনটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা দেখাচ্ছে যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার সামান্য কমলেও—১৯৯৪-৯৫ সালের ২৪ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে—গভীরতর দারিদ্র্যের পরিধি বেড়েছে। ‘অত্যন্ত গভীর দারিদ্র্য’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন পরিবারগুলোকে, যাদের বাসাভাড়া বাদ দেওয়ার পরও আয় যুক্তরাজ্যের মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশের নিচে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, দুটি ছোট সন্তানসহ একটি দম্পতির ক্ষেত্রে এই আয় বছরে মাত্র ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডের মতো। এই স্তরে থাকা মানুষেরা খাদ্য, জ্বালানি এবং পোশাকের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খান।

প্রতিবেদনটি আরও জানিয়েছে যে দারিদ্র্যের গভীরতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গড় দরিদ্র ব্যক্তির আয় দারিদ্র্যসীমার ২৮ শতাংশ নিচে। এটি ১৯৯৪-৯৫ সালের ২৩ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে কস্ট অফ লিভিং সংকট, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা নীতির অপর্যাপ্ততা। গত কয়েক বছরে জ্বালানি দামের উর্ধ্বগতি এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে দুর্বল গোষ্ঠীগুলোকে আরও পিছিয়ে দিয়েছে। জেআরএফের প্রধান বিশ্লেষক পিটার মাতেজিক বলেছেন, “দারিদ্র্য এখন শুধু বিস্তৃত নয়, এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর রূপ নিয়েছে।”

এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিশু এবং কর্মক্ষম বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের উপর। প্রতিবেদন অনুসারে, ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যে বাস করছে, যা টানা তৃতীয় বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, ৮১ লাখ কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক এবং ২১ লাখ পেনশনারও এই চক্রে আটকে পড়েছেন। লন্ডন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এবং য়র্কশায়ারের মতো অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে উচ্চ, যেখানে হাউজিং খরচের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল। স্কটল্যান্ডে দারিদ্র্যের হার যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন (২০ শতাংশ), কিন্তু সেখানেও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই প্রবণতা অর্থনৈতিক অসমতার একটি স্পষ্ট চিহ্ন। যেখানে ধনীদের আয় বাড়ছে, সেখানে দরিদ্ররা আরও পিছিয়ে পড়ছে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যেমন ইউনিভার্সাল ক্রেডিট এবং চাইল্ড বেনিফিটের সংস্কার না হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। রক্ষণশীল সরকারের শেষ মেয়াদে দারিদ্র্যের গভীরতা বেড়েছে, যা নতুন লেবার সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *