আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম ঠেকাতে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোথাও ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে দায় এড়াতে পারবেন না সংশ্লিষ্ট কেউই।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রশাসনের কড়াকড়ি অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু দুষ্কৃতকারীরাই নয়, দায়িত্বে অবহেলাকারীরাও জবাবদিহির আওতায় আসবেন। তাঁর ভাষায়, “কোনো জায়গায় যদি কোনো বাকসো ছিনতাই হয়, তাহলে ওই পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং অফিসার কিংবা দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউই রেহাই পাবে না।”
নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা গেছে, ব্যালট বক্স ছিনতাই ও ভোটকেন্দ্র দখল—এই দুই বিষয় ভোটের গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগেভাগে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে এমন স্পষ্ট বার্তা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে, যাতে আগাম সহিংসতার আশঙ্কা শনাক্ত করা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এই ধরনের “জিরো টলারেন্স” বার্তা দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়াবে। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই—এমন বার্তা মাঠে কাজ করা সদস্যদের আরও সতর্ক করে তুলবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও কঠোরতা—দুটোই সমান জরুরি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে শুধু ভোটের দিন নয়, তার আগের ও পরের সময়ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য সেই ধারাবাহিক প্রস্তুতিরই অংশ।


