ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসের এক সপ্তাহ পার হয়েছে, কিন্তু এখনও ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার সকালে বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যেও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আবহাওয়া তাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম জাভার পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে দিনের পর দিন প্রবল বর্ষণ মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার ভোরে ভূমিধসের রূপ নেয়। পাসির লাঙ্গু গ্রামের পাশাপাশি সিসারুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, এবং একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ান নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন সৈনিক রয়েছেন, যারা প্রশিক্ষণের সময় ধসের কবলে পড়েন।
উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি, বাসারনাস এবং সামরিক বাহিনী। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধান চালানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি এবং কুকুরের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি উদ্ধারকারীদের কাজকে কঠিন করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রিনা সুতান্তো বলেন, “আমাদের গ্রামটা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সবকিছু চলে গেছে, শুধু কাদা আর ধ্বংসাবশেষ।” ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রায় ৬৮৫ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্থানীয় সরকারি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
ভূমিধসের পাশাপাশি পশ্চিম জাভার বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীগুলোর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজধানী জাকার্তাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা শহরের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, লা নিনা এবং মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই প্রবল বর্ষণ ঘটছে, যা আগামী সপ্তাহেও চলতে পারে। এর ফলে জাকার্তা এবং আশপাশের এলাকায় ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক ফ্রম হোম নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
পশ্চিম জাভার গভর্নর দেদি মুলিয়াদি এই দুর্যোগের জন্য পাহাড়ি এলাকায় বিস্তৃত চাষাবাদকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “পাহাড়ের চারপাশে অতিরিক্ত চাষাবাদ মাটির ক্ষয় বাড়িয়েছে, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।” ইন্দোনেশিয়া, যা প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, প্রায়ই ভূমিকম্প, জ্বালামুখী অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূমিধসের মুখোমুখি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।


