জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে বলেছেন, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে যোগ দিলেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই চলমান থাকবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা। ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ নামে ৩৬ দফার এই দলিলে তারুণ্যের শক্তিকে কেন্দ্র করে একটি বৈষম্যমুক্ত, সুশাসিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, জোট গঠনের পরও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে এনসিপির সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা কি ফিকে হয়ে গেছে? তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটা কেবল নির্বাচনি জোট, রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ নয়। আমরা এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই সংস্কারের দাবিগুলোকে এগিয়ে নেব। নতুন বন্দোবস্তের লড়াই দীর্ঘমেয়াদি, এক নির্বাচনে শেষ হবে না।” এনসিপি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে গড়ে ওঠা দল হিসেবে বিগত আমলের ক্ষত মুছে ফেলে নতুন প্রজন্মের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে চায়।
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ইশতেহার দিয়ে প্রতারণা করতে আসিনি। বাস্তবায়ন না করার সংস্কৃতিতে আমরা ঢুকব না।” ইশতেহারে ১২টি অধ্যায়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে—রাষ্ট্র সংস্কার, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নারী ক্ষমতায়ন, প্রবাসী কল্যাণ থেকে পররাষ্ট্রনীতি পর্যন্ত। বিশেষ করে তরুণদের জন্য ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১০০ বিলিয়ন টাকার উদ্যোক্তা তহবিল, ভোটাধিকার ১৬ বছরে নামানো, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধসহ বেশ কিছু বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এনসিপি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের হাত ধরে। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক পেয়ে নিবন্ধিত হয়। দলটি ১১ দলীয় ঐক্যে (সমমনা ১১ দল বা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ) যোগ দিয়ে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই জোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল রয়েছে। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, “এটা ঐতিহাসিক যাত্রা, কিন্তু আমাদের লড়াইয়ের গন্তব্য নতুন প্রজাতন্ত্র।”
ইশতেহার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এনসিপি নিজেকে একটি তারুণ্যনির্ভর, সংস্কারমুখী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। দলের নেতারা বলছেন, বিগত দশকের দুর্নীতি, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের ক্ষত থেকে উত্তরণের জন্য এই দলিল একটি রোডম্যাপ। নাহিদ বলেন, “এটা গদি দখলের দলিল নয়, মর্যাদার অধিকার আদায়ের ইশতেহার।”


