TT Ads

ঢাকা–১১ আসনের জোট সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত এবারও ষড়যন্ত্র করছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণসংযোগ চলাকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে শুধু দেশের ভেতরের চ্যালেঞ্জ নয়, বাইরের চাপও একটি বড় বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশী দেশ ষড়যন্ত্র করছে। প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিকরা বিভিন্ন মন্তব্য করছে। আওয়ামী লীগের আগের ভোট কারচুপির নির্বাচন ভারত সমর্থন করেছে। এবারও তারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে উঠে আসে বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনে জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, বরং ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিদেশি সমর্থন ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ আজ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মালিবাগের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে, কোনো বিদেশি প্রভাব বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপে নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য মূলত জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘বিদেশি প্রভাব’ বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী বা নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো ভোটারদের মধ্যে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নটি জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে।

তবে সরকারি দল বা ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল বাংলাদেশের নির্বাচনকে সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে আসছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবুও রাজনৈতিক মাঠে এই ধরনের বক্তব্য প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ধারার প্রশ্ন।” তিনি দাবি করেন, যদি জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন হয়, তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। তাঁর মতে, গণতন্ত্র রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *