আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্র কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা হবে, উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করা হবে এবং সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তনসহ বিরোধী দল ও নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহির ঘাটতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদ নির্ধারণের ফলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের প্রবণতা কমবে এবং নেতৃত্বে নিয়মিত পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ইশতেহারের অন্যতম আলোচিত প্রস্তাব হলো উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি। বিএনপি নেতারা বলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা এবং সংকটকালে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় উপ-রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমানো এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণেও এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছে দলটি।
সংসদের কাঠামো নিয়েও বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে। বর্তমান একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পাশাপাশি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। তাদের মতে, উচ্চকক্ষ আইন প্রণয়নে পুনর্বিবেচনা ও অভিজ্ঞ মতামতের সুযোগ তৈরি করবে, যা হঠকারী সিদ্ধান্ত কমাতে সহায়ক হবে। এই উচ্চকক্ষে নারীদের অন্তত ২০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেছে বিএনপি।
এ ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের ভূমিকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। এর অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দল থেকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, এতে সংসদে ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং গঠনমূলক বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই প্রস্তাবগুলো মূলত ক্ষমতার চর্চায় ভারসাম্য আনার একটি রূপরেখা। দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উদাহরণ রয়েছে। তবে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন হবে, যা রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া সহজ নয়।
বিএনপির নেতারা বলছেন, এসব সংস্কার কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর সংসদে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা যাবে।


