ফাইনাল শেষে পুরস্কার মঞ্চে উঠেছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার—হাতে উঠেছে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল, কিন্তু মুখে ছিল না বিজয়ের হাসি। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলেও ফাইনালে গোল না পাওয়া এবং দলের পরাজয়ই যেন এই কিশোরী স্ট্রাইকারের সাফল্যকে ঢেকে দিল হতাশার ছায়ায়।
পুরো টুর্নামেন্টে আলপি আক্তার ছিলেন বাংলাদেশের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। পঞ্চগড়ের এই কিশোরী স্ট্রাইকারের পায়ের কারুকাজ, গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ভর করেই বাংলাদেশ একের পর এক বাধা পেরিয়ে উঠেছিল ফাইনালে। দুটি হ্যাটট্রিকসহ মোট সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বাধিক গোলদাতা হন। স্বাভাবিকভাবেই গোল্ডেন বুট ছিল তাঁরই প্রাপ্য। পাশাপাশি ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার—গোল্ডেন বল।
তবে ফাইনালের গল্পটা আলাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণ ও কৌশলী খেলায় আটকে যায় বাংলাদেশের আক্রমণ। আলপি চেষ্টা করেছেন বারবার, দৌড়েছেন শেষ বাঁশি পর্যন্ত, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি। দলের পরাজয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে শিরোপা জয়ের। তাই ব্যক্তিগত দুই পুরস্কার হাতে নিয়েও তাঁর চোখেমুখে ফুটে উঠেছে অপূর্ণতার বেদনা।
এই হতাশার মধ্যেও আলপির টুর্নামেন্টজুড়ে পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট—প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। কখনো একক নৈপুণ্যে, কখনো দলগত আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে গোল করেছেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। কোচিং স্টাফদের মতে, বয়সের তুলনায় তাঁর ম্যাচ রিডিং ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বেশ পরিণত।
আলপির উত্থান শুধু একটি টুর্নামেন্টের গল্প নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সম্ভাবনারও প্রতিচ্ছবি। প্রত্যন্ত পঞ্চগড় থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলো ছড়ানো—এই পথচলা অনেক কিশোরীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ফুটবল বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে আলপি ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন।
ফাইনাল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আলপি বলেন, দলের হারটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টের। ব্যক্তিগত পুরস্কার গর্বের হলেও শিরোপা না জিততে পারার আক্ষেপ কাটছে না। তাঁর কণ্ঠে ছিল পরিণত মানসিকতার ইঙ্গিত—ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত অর্জনই যে তাঁর কাছে বড়।


