TT Ads

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুই দিনসহ মোট সাত দিন সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। সেই অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্র, আশপাশের এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চার দিন আগে থেকেই বাহিনী মাঠে নামছে। ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময়েও যাতে কোনো উত্তেজনা বা সহিংসতা না ঘটে, সেজন্য আরও দুই দিন বাহিনী সক্রিয় থাকবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। র‍্যাব ও বিজিবি থাকবে ভ্রাম্যমাণ টহলে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুজব কিংবা অপতৎপরতা রুখতে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভোটের আগের ও পরের সময়টাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সাত দিনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে জনবল বণ্টন করা হবে। কোথাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সেখানে সীমিত বাহিনী থাকবে, আর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকবে অতিরিক্ত ফোর্স। প্রয়োজনে দ্রুত রিজার্ভ ফোর্স পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে।

ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস জোরদার করাও এই নিরাপত্তা উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইসি। কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *