TT Ads

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার আকর্ষণীয় ভাষা ও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে সাজানো হলেও বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতারা বলেন, ভোটের আগে দলগুলো নাগরিকদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর অর্থায়ন, বাস্তবতা ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। ফলে ইশতেহারগুলো অনেকটাই ‘কাগুজে স্বপ্নে’ সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, বড় দুই রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ছড়াছড়ি। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন—সবখানেই ব্যাপক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথা থেকে এই বিপুল অর্থ আসবে, কীভাবে ব্যয় হবে কিংবা কর কাঠামোতে কী পরিবর্তন আনা হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুপস্থিত।

সুজনের একাধিক প্রতিনিধি বলেন, একটি দেশের বার্ষিক বাজেট ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনা না করে ইশতেহারে অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি দিলে তা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, লাখ লাখ কর্মসংস্থান, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা, ভর্তুকি বৃদ্ধি কিংবা বড় মেগা প্রকল্প—এসব বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা বর্তমান অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, বেশিরভাগ ইশতেহারেই জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি দুর্বল। দুর্নীতি দমন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কিংবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এসব মৌলিক ইস্যুতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি কম। অথচ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এগুলোই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইশতেহার হওয়া উচিত একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা। কিন্তু তা অনেক সময় হয়ে দাঁড়ায় আবেগনির্ভর প্রতিশ্রুতির তালিকা। ফলে নির্বাচন শেষে অনেক প্রতিশ্রুতি আর আলোচনাতেই থাকে না। এতে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানায়, শুধু আকর্ষণীয় স্লোগান দেখে নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিচার করেই দল বেছে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তারা আহ্বান জানায়—ইশতেহারে আয়-ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন কৌশল যুক্ত করতে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *