TT Ads

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাংবিধানিক গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় হলে দেশের সংসদীয় কাঠামোয় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন—এককক্ষের পরিবর্তে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠিত হবে, যার মধ্যে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ যুক্ত হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের এই প্রস্তাব জনগণের সরাসরি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

একটি ভোটের মাধ্যমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং সংবিধান সংশোধনের ভবিষ্যৎ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের হাতে এখন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। গণভোটে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে: একটি সাদা (সংসদ নির্বাচনের জন্য) এবং অন্যটি গোলাপি (গণভোটের জন্য)। গোলাপি ব্যালটে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নেবেন জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে।

জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি হয়। এতে স্বৈরাচার প্রতিরোধ, গণতন্ত্রের শক্তিশালীকরণ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো দ্বিকক্ষ সংসদ ব্যবস্থা চালু। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট। ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন নিয়ে এটি চলে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে এই কাঠামোয় যুক্ত হবে একটি উচ্চকক্ষ।

উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০টি আসন। এগুলো সরাসরি নির্বাচিত হবে না। বরং সংসদ নির্বাচনে দলগুলো যে ভোট পাবে, তার আনুপাতিক হারে (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) আসন বণ্টন করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো দল ৩০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে উচ্চকক্ষে তারা পাবে ৩০টি আসন। এই ব্যবস্থা ছোট দলগুলোকেও প্রতিনিধিত্ব দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সংবিধান সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের পাশাপাশি উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতাও লাগবে। ফলে একক দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমে আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গণভোটের অন্যান্য প্রধান প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর (দুই মেয়াদ) সীমাবদ্ধ করা এবং নারীদের সংরক্ষিত আসন ধাপে ধাপে বাড়ানো। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য—ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক করা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *