ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আজ আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই প্রথম দেশ এককক্ষ বিশিষ্ট সংসদ থেকে বেরিয়ে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রবেশ করছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ শনিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা। গেজেট প্রকাশের পর এখন সবার দৃষ্টি সংসদ অধিবেশনের দিকে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে।
এবারের সংসদটি গত ১২টি সংসদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা দেখে আসলেও, এবারই প্রথম প্রবর্তিত হচ্ছে ‘নিম্নকক্ষ’ ও ‘উচ্চকক্ষ’। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রবর্তিত এই ব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
নিম্নকক্ষ (জাতীয় পরিষদ): দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় জনগণের সরাসরি ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে গঠিত হবে সংসদের নিম্নকক্ষ। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সদস্য। মূলত সরকার গঠন, বাজেট পাস এবং দৈনন্দিন আইন প্রণয়নের মূল কাজগুলো এখানেই সম্পন্ন হবে।
উচ্চকক্ষ (সিনেট): এটি হবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চতর পরিষদ। সরাসরি ভোটের পাশাপাশি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এখান প্রতিনিধি নির্বাচন করা হতে পারে। উচ্চকক্ষের মূল কাজ হবে নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইনগুলো পর্যালোচনা করা এবং কোনো বিতর্কিত বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নকক্ষ থেকে পাস হওয়া কোনো বিল চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। উচ্চকক্ষ চাইলে সেই বিলে সংশোধনীর প্রস্তাব করতে পারবে অথবা আলোচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারবে। এতে করে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত বা একপাক্ষিক আইন পাসের পথ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


