সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের পর দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী gx সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এরপরই মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। বিএনপির ২০৯ আসনের সঙ্গে জোটসঙ্গীরা মিলে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন নিশ্চিত করেছে।
এই বিজয়কে অনেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার উত্থানের ফসল বলছেন, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ভেঙে নতুন সরকারের পথ খুলে দিয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে, যেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা উপস্থিত থাকবেন। শপথের পর মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন হবে, যা দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে নজর রেখে করা হবে। বিএনপি ইতিমধ্যে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ এবং ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ১৯৭৫’ অনুসারে বেতন-ভাতা ও সুবিধা পাবেন। এই আইনগুলো সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১,১৫,০০০ টাকা, যার সঙ্গে বাসভবন ভাড়া (যদি নিজের বাড়িতে থাকেন) ১,০০,০০০ টাকা, দৈনিক ভাতা ৩,০০০ টাকা, ভ্রমণ, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাসভবন সজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করে।
মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে বেতন ১,০৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য যথাক্রমে ৯২,০০০ ও ৮৬,৫০০ টাকা। এছাড়া দৈনিক ভাতা, যাতায়াত, বাসভবন ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধাগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামোয় রাখা হয়েছে। তবে জনগণের মধ্যে এসব সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে যখন বিএনপি স্বচ্ছতা ও সরল জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্ত্রিসভা গঠন দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন ও যুবকদের কর্মসংস্থানের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রথম ধাপ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কীভাবে জুলাই সনদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।


