TT Ads

নতুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে ছোট ছোট পরিবর্তন নয়, বরং অনেক বড় বড় জাম্প দিতে হবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় নকল রোধ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের স্মৃতিচারণ করে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এসব সমস্যা আর ফিরে আসবে না। এই মন্তব্য শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন ড. মিলন। ২০০১-২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নকলবিরোধী অভিযানে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। হেলিকপ্টারে উড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিযান চালানোর গল্প এখনও শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে ফেরে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এসে তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, এবারও তা অব্যাহত থাকবে—এমনকি আরও কঠোরভাবে।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জোর দেন যে, শিক্ষাখাতে এখন আর সাধারণ উন্নয়ন চলবে না। “শুধু জাম্প নয়, বড় বড় জাম্প দিতে হবে,”—এই কথায় তিনি একটি রূপকের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছোট পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ, তাই শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, এআই ও রোবটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

অতীতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর নকল রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার করা—এসবের ফলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও এসব অপকর্মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের সৎ পথে লেখাপড়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা প্রমাণের একমাত্র উপায় পরিশ্রম, নকল নয়।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে এই বক্তব্য ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত অস্থিরতা, প্রশ্নফাঁস ও নকলের ছায়া থেকে মুক্তি পাওয়ার এটি একটি সুস্পষ্ট সংকেত। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়—কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বিভাজন দূর করা। মন্ত্রী এসব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *