TT Ads

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান। এই অনুষ্ঠান নতুন সরকারের প্রথম দিনের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা দেশের স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর আজ প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে সরাসরি সাভারের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে এককভাবে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারপর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং স্মৃতিসৌধ চত্বরে একটি পারিজাত গাছের চারা রোপণ করেন—যা স্বাধীনতার চিরসবুজ স্মৃতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই শ্রদ্ধাঞ্জলি নতুন সরকারের দর্শনের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষ করে গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সরকারের ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করলেন।

স্মৃতিসৌধে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য, যারা গতকালই শপথ নিয়েছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে। এই পুরো কর্মসূচি নতুন সরকারের ঐতিহাসিক ও পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। ১৯৭১ সালের ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনায় প্রতি বছর লাখো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথম এমন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, যা জনগণের মধ্যে আশা ও আস্থা জাগিয়েছে। অনেকে মনে করেন, এটি নতুন সরকারের জাতীয় ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার প্রতিশ্রুতি।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *