পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া প্রোটিনের বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, এবার রাজধানীর ২৫টি পয়েন্টে ১০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করা হবে।
রমজান মাস আসার আগেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বিশেষ করে গরুর মাংস, খাসির মাংস কিংবা দুধের মতো উচ্চ মূল্যের প্রোটিন সাধারণ নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের পাত থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (BLRI) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এই বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সরকারের লক্ষ্য কেবল বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আমরা চাই না অর্থাভাবে কেউ পুষ্টিহীনতায় ভুগুক। ১০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা আমরা পুরো রমজান মাস জুড়ে সফলভাবে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো শহরকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা যেমন—উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুর, খিলগাঁও এবং যাত্রাবাড়ীসহ মোট ২৫টি পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।
প্রতিটি ট্রাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ, ডিম ও মাংস বরাদ্দ থাকবে যাতে করে সুশৃঙ্খলভাবে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে খোলা বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সিন্ডিকেটের প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠা মাংস ও ডিমের বাজারে দাম কিছুটা হলেও নাগালে আসবে।


