TT Ads

তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সামরিক হামলার হুমকি উড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএসএনবিসি’র ‘মর্নিং শো’ অনুষ্ঠানে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই—শুধু কূটনৈতিক পথই কার্যকর। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ইরান একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করবে, যা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হবে।

এই সাক্ষাৎকার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ইরান যদি ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ (শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ) মেনে না নেয়, তাহলে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যেই জেনেভায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। আরাঘচির দাবি, সেখানে দুই পক্ষ কিছু ‘গাইডিং প্রিন্সিপল’ বা মূল নীতিমালায় সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনও বড় ফারাক রয়ে গেছে।

আরাঘচি সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানের কাছে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার দাবি করেনি। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শূন্য সমৃদ্ধকরণ চায়নি। আমরাও কোনো সাসপেনশন প্রস্তাব করিনি। আলোচনা চলছে কীভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—সমৃদ্ধকরণসহ—চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে।” এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে স্পষ্ট করেন, ট্রাম্পের দাবি স্পষ্ট—ইরানকে নিউক্লিয়ার অস্ত্র বা তার সক্ষমতা থেকে বিরত রাখতে হবে, এবং সে জন্য ইরানকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা শান্তির জন্য প্রস্তুত, যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। যদি যুক্তরাষ্ট্র শক্তির ভাষা ব্যবহার করে, আমরাও একই ভাষায় জবাব দেব।” তিনি মার্কিন সামরিক মোতায়েনকে “অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর” বলে অভিহিত করেন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সামরিক আক্রমণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে পারেনি, বরং উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *