TT Ads

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অগণিত মানুষের ঢল নেমেছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে। অনেকে পায়ে হেঁটে, কালো ব্যাজ পরে, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গান গেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আত্মত্যাগের প্রতীক, ভাষা ও অধিকারের জন্য লড়াইয়ের অমর গাথা। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে প্রাণ দিয়েছিলেন মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায়। সেই ত্যাগের স্মৃতিতে প্রতিবছর শহীদ মিনারে জড়ো হয় লাখো মানুষ। এবারও রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদনের মিছিল। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও ঘনীভূত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি—সবাই এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজ-স্কুলের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। অনেকে সাদা-কালো পোশাক পরে, পায়ে জুতো খুলে, মাথায় কালো ব্যাজ লাগিয়ে এসেছেন। শহীদ মিনারের বেদিতে রক্তিম গোলাপ, পলাশ, শিমুল ফুলের স্তূপ জমেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাইন এতটাই দীর্ঘ যে, অনেককে ১-২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবু কারও মুখে অভিযোগ নেই। এক তরুণী বললেন, “একুশে আমাদের পরিচয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না জানালে নিজেকে বাঙালি বলে দাবি করা যায় না।” একজন বয়স্ক শিক্ষক গান গাইতে গাইতে চোখ মুছছিলেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…’ গানের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে, যেন শহীদদের আত্মা এসে মিশে গেছে জনতার সঙ্গে।

এবারের একুশে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। সারাদেশের শহীদ মিনারগুলোতেও একই দৃশ্য—চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী—সর্বত্র মানুষের ঢল। আলপনা আঁকা পথ ধরে ফুলহাতে এগিয়ে যাচ্ছেন সবাই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *