TT Ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের আটটি বিভাগের একটি করে উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে, যাতে প্রান্তিক ও স্বল্পআয়ের পরিবারগুলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা পায়।

নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গড়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলটি ক্ষমতায় এসে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় এখন প্রতিশ্রুতি পালনের চ্যালেঞ্জ সামনে। সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা কার্ড বিতরণের ডিজাইন, সুবিধাভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড এবং বাস্তবায়ন কৌশল প্রণয়ন করবে। কমিটিকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপে থাকা স্বল্পআয়ের, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম ধাপে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে এক অর্থবছরে (ক্যাশ-আউট চার্জসহ) প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, সহায়তার পরিমাণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, এবং পর্যায়ক্রমে এটি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডটি মূলত পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর নামে ইস্যু করা হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

পাইলট প্রকল্প হিসেবে আটটি বিভাগের একটি করে উপজেলায় (যেমন—কুড়িগ্রাম সদর, শ্যামনগর, দিরাই, লামা, চর ফ্যাশন, কেরানীগঞ্জ, নান্দাইল, পাবা) এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথমে অগ্রাধিকার পাবে হতদরিদ্র, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, বিধবা বা নারী-প্রধান পরিবার। বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর (যেমন—ভাতা, ভিজিডি, টিসিবি কার্ড) সঙ্গে সমন্বয় করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ধাপে ধাপে সারাদেশে বিস্তৃত হবে।

এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, বিশেষ করে রমজান ও ঈদের সময় যখন খরচ বেড়ে যায়। তবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে কি না—তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *