রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওইদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন ডেকেছেন, যা নতুন সরকারের অধীনে দেশের আইনসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।
এই অধিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপিরা শপথ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। এরপর প্রায় এক মাসের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দ্রুততার পরিচয় দেয়।
প্রথম অধিবেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। সাধারণত পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অনেকে নির্বাচনে অংশ নেননি বা পরাজিত হয়েছেন। তাই জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবেন। এই ব্যক্তি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অধিবেশন পরিচালনা করবেন। এরপর সংসদ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবেন।
অধিবেশন দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দিনেই স্পিকার নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবে। এ ছাড়া শোক প্রস্তাব, রাষ্ট্রপতির ভাষণ (পরবর্তী অধিবেশনে) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচিত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অধিবেশন নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারগুলোর প্রতিফলন ঘটাবে। বিগত সময়ের অস্থিরতার পর সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের এই মুহূর্তটি দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


