ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা এখনো হয়নি। পরিষদের সদস্য আহমাদ আলামোলহোদা বলেছেন, ভোট হয়েছে, নেতা নির্ধারিত হয়েছেন এবং শিগগিরই নাম প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণা যুদ্ধাবস্থায় ইরানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন, যা ১৯৮৯ সাল থেকে চলা তার ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর সংবিধান অনুসারে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল দায়িত্ব গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছে। পরিষদের সদস্য মোহসেন হেইদারি আলেকাসির বলেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তি এমন হবেন যাকে ‘শত্রু’ ঘৃণা করে—এটি ইঙ্গিত করে যে নির্বাচন যুদ্ধকালীন প্রতিরোধের মনোভাবকে প্রাধান্য দিয়েছে।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি নাম উঠে এসেছে মোজতাবা খামেনির। ৫৬ বছর বয়সী এই মধ্যম স্তরের কঠোরপন্থী ধর্মীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এবং ক্লেরিক্যাল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। খামেনির ছেলে হিসেবে তার উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—কারণ ১৯৭৯-এর বিপ্লব রাজতন্ত্র উল্টে দিয়েছিল, এবং পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে অনেকে ‘রাজতান্ত্রিক’ বলে দেখেন। তবু যুদ্ধের চাপে দ্রুত স্থিতিশীলতার জন্য এই পছন্দকে অনেকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক চাপও এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতাবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দাবি করেছেন। এর জবাবে ইরানি ক্লেরিকরা বলছেন, ‘বড় শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) যার নাম নিয়েছে, সেই ব্যক্তিই সম্ভবত নির্বাচিত। ইসরায়েলও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকে তারা লক্ষ্য করবে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নেতার ঘোষণা যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।


