মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুমকি সত্ত্বেও ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছে। গতকাল রোববার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া ইরানের নির্বাচিত যেকোনো নেতা ‘বেশি দিন টিকবে না’।
এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরানের কট্টরপন্থী শক্তির দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, যা ইরান-বিরোধী যুদ্ধের সূচনা করে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে, কিন্তু বিশেষজ্ঞ পর্ষদ দ্রুত উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, পর্ষদের সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।
ট্রাম্পের হুমকি এসেছে নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচিত নেতা বেশি দিন টিকবে না।” এর আগে তিনি মোজতবাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘লাইটওয়েট’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এমনকি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দাবি করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে অনেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘শত্রুর অহংকার’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনি, ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে কাজ করেছেন। তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রাখেন এবং কট্টর মতাদর্শের প্রতি অটল অঙ্গীকারের জন্য পরিচিত। বাবার শাসনকালে তিনি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর রেভল্যুশনারি গার্ডসহ বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী তাঁর প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। তবে কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এটিকে ‘বংশানুক্রমিক শাসন’ বলে সমালোচনা করছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই নিয়োগ যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মোজতবার অধীনে কট্টর নীতি অব্যাহত থাকলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। ইসরায়েলও নতুন নেতাকে ‘লক্ষ্যবস্তু’ বলে হুমকি দিয়েছে।


