ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ইতিহাসের পাতা খুলল লড়াকু এক কণ্ঠে। বৃহস্পতিবার বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। একাত্তরের রণাঙ্গনের সেই সেনাপতি এখন সংসদীয় গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ আসনে।
স্পিকার পদে তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং তা দ্বিতীয় করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংসদের পথচলা ।
কিন্তু শুরুতেই ছিল না স্পিকার। ফলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা-২ আসনের সাংসদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যাকে সাময়িক এ দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্পিকার শূন্য থাকায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম ঘোষণার পর তা করতালির মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
একই সঙ্গে নেত্রকোনা-১ আসনের তরুণ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তার নাম প্রস্তাব করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সমর্থন করেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ।
দুই শীর্ষ পদে নির্বাচন শেষে বিরতি দেয়া হয় সংসদের। পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কক্ষে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সিনিয়র মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন এই স্পিকারের রক্তে মিশে আছে। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভের পর ১৯৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতার যুদ্ধে। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও কামালপুরের যুদ্ধে তার বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বীর বিক্রম’ খেতাব পান তিনি।
সেনাবাহিনীর মেজর থেকে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন আশির দশকের মাঝামাঝি। ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সর্বশেষ তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।
শুধু সেনা কর্মকর্তা বা রাজনীতিক নন, তিনি এক সময়ের জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলারও। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ঢাকা লিগ জয় এবং পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব আছে তার ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও কঠোর শৃঙ্খলার সমন্বয়ে নতুন সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ সাংসদিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনের নানা স্তরে কাজ করার কারণে সংসদীয় প্রক্রিয়া তার কাছে খুব স্পষ্ট।
স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রতি আশা প্রকাশ করে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “আমরা চাই ১৩তম সংসদ হোক কার্যকর ও গতিশীল। স্পিকার সাহেবের নেতৃত্বে তা সম্ভব হবে।


