গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে গেলে আইনি জটিলতা কাটাতে আগে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি বলেন, গণভোটের ব্যালটে প্রশ্নের জটিলতা এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আগে সংবিধান সংশোধনের ওপর নির্ভর করছে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আলোড়ন সৃষ্টি করে।
জাতীয় সংসদের রোববারের অধিবেশন শুরু হয় বেলা এগারোটায়। নির্ধারিত কার্যসূচি শেষে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’ ইস্যুটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, গণভোটের ফলাফল কার্যকর করতে হলে সেটি বিদ্যমান সংবিধানের ছকে বাঁধা পথে সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, আইন অনুসারে সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে, সংবিধানে সংশোধন আসতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো এবং গণভোটের প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা নিরসন করা জরুরি।
কেন এই সংশোধন অপরিহার্য, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণভোটের ব্যালট পদ্ধতির জটিলতা তুলে ধরেন। তিনি সংসদ সদস্যদের জানান, “গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ অপশন থাকলেও মাঝপথে একটি আদেশের মাধ্যমে চারটি জটিল প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছিল। ব্যালটের প্রশ্নগুলো পড়ার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন ছিল এবং চারটি প্রশ্নের জন্য আলাদা আলাদা ‘হ্যাঁ/না’ অপশন ছিল না।”
তাঁর ভাষ্যে উঠে আসে, একটি প্রচলিত গণভোটে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের সরল জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু এখানে একসঙ্গে চারটি ভিন্ন এবং জটিল প্রশ্ন যুক্ত করে দেওয়া হয়, তাও আবার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর একক অপশনের মাধ্যমে। এর ফলে ভোটাররা কী বুঝে ভোট দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একজন সাধারণ ভোটারের পক্ষে দীর্ঘ ও জটিল চারটি প্রশ্ন একসঙ্গে পড়ে বোঝা এবং তার ওপর একক সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও দুরূহ ব্যাপার। এই ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ই এখন আইনি জটিলতার সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই ফোরামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কেননা, গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বিভিন্ন মহল। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি এই ইস্যুতে প্রথম বিস্তারিত ব্যাখ্যা এলো আজ।


