অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি অর্থবছরে জিডিপিতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ।

রোববার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, গতবছর জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বছর জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

জিডিপির আকার ৪৫৫ বিলিয়ন ডলার হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ৪৫৫ বিলিয়ন ডলারকে আমাদের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ভাগ দিলেই মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৭৮৫ ডলারে উন্নীত হবে। এটা হচ্ছে আমাদের এই বছরের হিসাব। আশা করি, আগামী অর্থবছরে আমাদের জিডিপির আকার অর্ধ ট্রিলিয়নের মাইলফলক স্পর্শ করবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সবসময় বিশ্বের অর্থনীতি একদিকে বিশ্লেষণ করে, অন্যদিকে তাদের পর্যবেক্ষণ বা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আমরা প্রত্যাশা করছি ৭ দশমিক ২ শতাংশ, এর বিপরীতি আইএমএফ বলছে আমাদের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ আমরা অর্জন করতে সক্ষম হবে। আমরা অবশ্যই অতীতের মতো আমার বিশ্বাস, আমরা যা বলেছি সেটা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

আগামী বছরও আমাদের মাথাপিছু আয় তিন হাজার ৮৯ মার্কিন ডলার হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সে বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিত ৫ শতাংশ হবে, এটা আমার মোটামুটি হিসাব।

এদিন অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত কমিটির তিনটি ও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাতটি, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তিনটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিনটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি, জন নিরাপত্তা বিভাগের একটি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল। কমিটির অনুমোদিত ১৬টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৩৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৪ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ৪৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮১ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ থেকে ৯৩৭ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয় হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তন : বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক যুগে একাধিকবার জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটেছে। এর পরিবর্তনের সাথে বিভিন্ন প্রজাতি আভিযােজন ঘটাতে না পারায় তাদের বিলুপ্তি ঘটেছে। কার্বনিফেরাস ও প্লিস্টোসিন যুগে সমগ্র পৃথিবী বরফাবৃত থাকায় অসংখ্য প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

অগ্ন্যুৎপাত : অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে সৃষ্ট লাভা প্রবাহে বহু প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে।

ধূমকেতুর পতন : মহাকাশ থেকে আগত ধূমকেতু পৃথিবীপৃষ্ঠে আছড়ে পড়লে সেখানকার জীবের মৃত্যু ঘটে।

বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, সুনামি : বন্যা, খরা, ভূমিকম্প ও সুনামি ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বহু প্রজাতির জীবের বিনাশ ঘটে ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

মানুষ্য কারণসমূহ-

আবাসস্থলের সংকোচন : পৃথিবীতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাহিদা পূরণ করার জন্য নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। এর ফলে উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ও তার সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলগুলিও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক প্রাণীর বিচরণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দরকার। আবাসস্থলের সংকোচন হলে তারা ঠিকমতাে প্রজনন করতে পারে না। মানুষের তথাকথিত উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ, যেমন বনাঞ্চল কেটে কৃষিজমির সম্প্রসারণ, আবাসন প্রকল্প তৈরি, কলকারখানা স্থাপন প্রভৃতির জন্য অরণ্যাঞ্চল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে ও জীববৈচিত্র্যের বিনাশ ঘটছে।

বিদেশ থেকে আগত প্রজাতি : যে-কোনাে বাস্তুতন্ত্রের নিজস্ব গঠনবৈচিত্র্য থাকে। বাইরে থেকে হঠাৎ কোনাে প্রজাতি এলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের গঠন বিনষ্ট হয়। এতে স্থানীয় প্রজাতির বৈচিত্র্য ভীষণভাবে হ্রাস পায়। যেমন—পার্থেনিয়াম নামক গুল্ম ও কচুরিপানা বিদেশ থেকে এনে এদেশে স্থাপন করায় আমাদের বাস্তুতন্ত্র ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় খরগােশ আমদানি হওয়ার পর থেকে সেখানকার অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ বিনষ্ট হয়ে গেছে।

বন্যপ্রাণীর সংহার : বিভিন্ন বন্যজীবকে নির্বিচারে হত্যা করার ফলে সেই প্রজাতিগুলি ক্রমান্বয়ে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। হাতির দাঁত, বাঘের চামড়া, গন্ডারের খড়গ প্রভৃতির জন্য সেই জীবদের এমন হারে হত্যা করা হয়েছে যে বর্তমানে তারা বিলুপ্তপ্রায় বলে গণ্য হচ্ছে।

অত্যধিক হারে উদ্ভিদ প্রজাতির আহরণ : বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে বিভিন্ন বৃক্ষলতা ও গুল্ম আহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনাঞ্চল থেকে ভেষজ গুণসম্পন্ন গুল্মগুলি সংখ্যায় অতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

বিভিন্ন প্রকারের দূষণ : সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে জলদূষণ, বায়ুদূষণ ও মৃত্তিকাদূষণের মাত্রা প্রভূত পরিমাণে বাড়ছে। এই দূষণের ফলে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। প্রকৃতিতে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কীটনাশককেই দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। অধীক বায়ুদূষণের ফলে পােল্যান্ডের একটি জাতীয় উদ্যানে একবার ৪৩টি প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে চিলজাতীয় পাখির সংখ্যা হ্রাসের কারণও হল প্রকৃতির দূষণ।

পরিকল্পনাবিহীন উন্নয়ন : যে-কোনাে উন্নয়নমূলক কাজে হাত দেওয়ার আগে পরিবেশের ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে সমীক্ষা করে নেওয়া প্রয়ােজন। ভারতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বাঁধ, জলাধার, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলির পরিবেশগত ঝুঁকি আগে থেকে বিশ্লেষণ করা হয়নি। এর ফলে এইসব পরিকল্পনা রূপায়ণে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্র প্লাবিত হয়েছে, আদিবাসীরা বাস্তুভিটে হারিয়েছে এবং অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী চিরকালের জন্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

অপর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য আজ পর্যন্ত সঠিক ও পর্যাপ্ত আইন প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রচলিত আইনগুলিও সঠিক পরিচালন ব্যবস্থার অভাবে তা প্রয়ােগ করা যাচ্ছে না। যতদিন না উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হবে ও কঠোরভাবে তা বলবৎ করা হবে – ততদিন জীববৈচিত্র্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ অসম্ভব।

ডেল্টার পর করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। নতুন ধরন হিসেবে দেখা দিয়েছে নিওকোভ। তীব্র সংক্রমণ ক্ষমতার জন্য এ রূপ নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। এমনই দাবি করছেন চীনের একদল বিশেষজ্ঞ। করোনার নতুন এই ধরনের নাম ‘নিওকোভ’।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারী) ভারতের সংবাদমাধ্যমে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

উহানের এই চিকিৎসা-বিজ্ঞানীদের দাবি, শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে সদ্য আবিষ্কার হওয়া এই মার্স-করোনাভাইরাস। শুধু তাই নয়, চীনা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই রূপের মারণক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রতি তিনজন সংক্রমিতের একজনের মৃত্যু হতে পারে ‘নিওকোভ’- এ।

উহানের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এ সংক্রান্ত গবেষণাপত্র। সেখানে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বাজারে বর্তমানে করোনার যেসব টিকা আছে তার কোনোটিই নিওকোভের বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে না। যদিও এই ভাইরাস নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

কোভিড-১৯ এর সঙ্গে অনেক জায়গাতেই মিল নিওকোভের। প্রথম এই ধরনের রূপের সন্ধান মেলে দক্ষিণ আফ্রিকায়। মূলত বাদুড়ের শরীরে পাওয়া যায় নিওকোভ। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবারই রাশিয়ার ‘ভেক্টর রাশিয়ান স্টেট রিসার্চ সেন্টার অব ভাইরোলজি অ্যান্ড বায়ো-টেকনোলজি’একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, চীনা বিশেষজ্ঞরা যে নতুন রূপ নিয়ে সাবধান করছেন, তা নিয়ে এখনই চিন্তার কিছু নেই। মানব শরীর এই রূপটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই ক্ষীণ।

করোনাভাইরাস শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে দেশে গত বছরের ২৪ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারিএ বছরের সর্বোচ্চ করোনাভাইরাস শনাক্তের হার দেখেছিল দেশের মানুষ। ওইদিন শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফলে আজকের হার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল।

২৮ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ৪৪০ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে করে দেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭১ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয় ৪৬ হাজার ২৬৮ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩২৬ জন। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৯ জন।

আর দিনের ব্যবধানে মহামারি করোনাভাইরাসে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩০৮ জনে।

জাপান সরকার ভাসানচরে অবস্থানরত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই অনুদানের মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এক মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে।

এই অর্থ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে, যাতে খাদ্য ও স্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে ভাসানচরে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) জাপান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত আইটিও নাওকি বলেন, তার সরকার ২০২১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে স্বাক্ষরিত এমওইউ এর অধীনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চলমান কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে যা ভাসানচরের জন্য সহায়তা প্রদানের একটি মৌলিক কাঠামো।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা লোকজনের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাজের প্রশংসা করেন।

নাওকি বলেন, ‘জাপান আশা করে, জাতিসংঘ ভাসানচরে বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষার প্রয়োজনে সাড়া দেবে এবং দৃঢ়ভাবে আশা করে যে, এই সহায়তা আরও ভালো পরিষেবা প্রদানে এবং ভাসানচরে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতিতে প্রভূত অবদান রাখবে।’

জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে কাজ করবে।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রতিক্রিয়ায় সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, এ জয় জনসাধারণের, যারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। ।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ চেয়ারম্যানবাড়ীতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। 

নাসিক নির্বাচনে টানা তিনবার জয়ী আইভী আরও বলেন, আমি দল ও নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমার নেতাকর্মীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার জন্য কাজ করেছেন।


আইভী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছর নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করব। আমার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাদের জন্য উৎসর্গ করতে চাই। সব ধরনের বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে কাজ করতে চাই। 


টানা তৃতীয় বারের মেয়র হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেন, এ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জে। তার ধারবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছি বলে নিজেকে গর্বিত মনে করি। শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমি আজীবন এ দল করবো, জয় বাংলা বলবো। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্ব হয়ে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করবো। দল-মতের উর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে কাজ করব।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুলেছেন। তার জবাবে আইভী বলেন,  এত মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল। ইঞ্জিনিয়ারিংটা কোথায় হল? আমি অভিযোগ করছিলাম, ভোট স্লো হচ্ছিল। যদি স্লো না হত তাহলে এক লাখ ভোটের ডিফারেন্স হত। কী ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে, আমি জানি না। দেশবাসী দেখেছে, মিডিয়া দেখেছে, নারায়ণগঞ্জবাসী দেখেছে; এখানে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ভোট কাস্টিং দ্রুত হলে ভালো হত।

এর আগে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট। দুজনের ভোটের পার্থক্য ৬৯ হাজার ১০২টি।
এর ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র হতে চলেছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

বাংলাদেশসহ ১৫৩টি দেশের ট্রানজিট সুবিধা বাতিল করেছে হংকং। বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের মতো দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোও রয়েছে।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কোভিড-১৯ বিস্তার নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ১৫৩টি দেশের যাত্রীদের জন্য হংকংয়ের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের মতো দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোও রয়েছে।

বলা হয়েছে, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তালিকায় থাকা নিষিদ্ধঘোষিত দেশগুলোর ফ্লাইট ট্রানজিটের জন্য হংকংয়ে অবতরণ করতে পারবেনা। পাশাপাশি গত ২১ দিনে যারা দুই ঘণ্টার ওপরে এ রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থান করেছেন, তারা কোন যাত্রীবাহী ফ্লাইটে হংকংয়ে প্রবেশও করতে পারবে না।


চীনের বাজারে এতে এখন থেকে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৯৩০টি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।


লেদার ও লেদার গুডস পণ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশের ৯৮% পণ্যকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন।


এই বাড়তি সুবিধা কার্যকর করতে লেটার অব এক্সচেঞ্জ করবে বাংলাদেশ ও চীন। ইতোমধ্যে চীনা সরকারের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এতে স্বাক্ষর করেছেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, চীন বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বাড়িয়েছে। এখন থেকে চীনে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ট্যারিফ লাইনের ৯৮% পণ্যে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

২০২০ সালে বাংলাদেশের ৯৭% পণ্যকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেয় চীন, যা ওই বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। এর আওতায় বাংলাদেশের ৮৫৪৭টি পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পেয়েছে। অর্থাৎ, চীন বাংলাদেশের আরও ৩৮৩টি পণ্যকে নতুন করে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।

তবে চীনে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বেশ কিছু আইটেম শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে ছিল। এবার এসব পণ্যকেও শুল্কমুক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার চীনা দূতাবাস থেকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা পণ্য তালিকা পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।


একক দেশ হিসেবে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। গত অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বাড়লেও চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি খুব বেশি বাড়েনি।

সময়ের আলোচিত একটি ইস্যু কণ্ঠশিল্পী ইলিয়াস হোসেন ও অভিনেত্রী হুমায়রা হোসেন সুবহা। ১ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হওয়ার পর থেকে অনেক নেতিবাচক বিষয় সামনে এসেছে। দুজন-দুজনের প্রতি এনেছেন নানা অভিযোগ।

এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন সুবহা। সেখানে তিনি বলেন, ‘তার আমার সমস্যার কারণ তিনটি। প্রথম, ইলিয়াস ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। চাচ্ছিল আমার ফেমটাকে কাজে লাগাতে। দ্বিতীয়ত, সে মনে করেছিল আমার অনেক টাকা। আর তৃতীয় কারণ, সে চেয়েছিল আমাকে ভোগ করতে। সেটা সে এর আগেও অনেক মেয়ের সঙ্গে করেছে।’

সুবহা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১ ডিসেম্বর তাদের বিয়ের আগেও কলমা পড়ে তাদের বিয়ে হয় এবং ইলিয়াস সুবহার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। তারা একসঙ্গে থাকত।

সুবহার দাবি, ১ ডিসেম্বর বিয়ের সময় ইলিয়াস সুবহাকে শর্ত দেয় যে এই বিয়ের খবর যেন জানাজানি না হয়। বিয়েতে সুবহার পরিবারের অনেকে থাকলেও ছিল না ইলিয়াসের পরিবারের কেউ।

ইলিয়াসের সাবেক স্ত্রী কারিনের ব্যাপারেও জানতেন সুবহা। সে ব্যাপারেও কথা বলেন তিনি।

সুবহা বলেন, ‘কারিন সুইডেন থাকে। আমি ইলিয়াসকে প্রশ্ন করেছিলাম কারিন আসলে তোমার লাইফে কী? কে? তোমার গার্লফ্রেন্ড? তখন ইলিয়াস আমাকে বলেছিল, কারিন তার গার্লফ্রেন্ড।

‘ইলিয়াস এও বলেছিল যে কারিন তো সুইডেন থাকে, ওর আসলে বিয়ের চিন্তা নাই। ও লিভ-ইন এ বিশ্বাস করে। সামাজিকভাবে যেন অসুবিধা না হয়, সে কারণে আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিতাম।’

সুবহা জানান, তিনি সে সময় মনে করেছেন সবার জীবনেই একটা পাস্ট থাকে। সুবহারও আছে। ইলিয়াস ভুলটা বুঝতে পেরেছে। তাই নেগেটিভ না ভেবে সব পজিটিভভাবে নিয়েছিলেন সুবহা।

ক্যাচ মিস এবং বাজে রিভিউ নেওয়ার ফলে একসময় যখন ভাবা হচ্ছিল ম্যাচটা হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। চতুর্থ দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৪৭ রান। বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে আছে মাত্র ১৭ রানে। হাতে আছে আর ৫ উইকেট।

রস টেইলর ছাড়া অভিজ্ঞ কিউই ব্যাটার আর কেউই নেই। আর তাই পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনটাতে বাংলাদেশের বোলাররা যত তাড়াতাড়ি স্বাগতিকদের অলআউট করতে পারবে, তত দ্রুতই জয় পাবে মুমিনুল বাহিনী।  

এদিকে, ধারাভাষ্যে নিজের করা এক মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মার্ক রিচার্ডসন। 

চতুর্থ দিন শেষে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড তখন ১ উইকেটে ৬৬ রানে ছিল। সেসময় আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশ এই টেস্ট হারতে যাচ্ছে। এখান থেকে নিউজিল্যান্ড সহজ জয়ের পথেই এগোচ্ছে। আমি এখন ক্ষমা চাইছি বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে। মুমিনুলরা এখন যে অবস্থানে আছে, সে জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়।’

নিউজিল্যান্ডে এখন পর্যন্ত টেস্ট দূরে থাক, কোনো ফরম্যাটেই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেখানেই টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে আরাধ্য জয়ের সম্ভাবনা জেগেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের আশা, শেষ দিনে হয়ত ম্যাচটি জিতেই যাবে বাংলাদেশ। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটি মুহূর্ত। তারা দৃঢ় সংকল্পে ব্যাট করেছে এবং পেস অ্যাটাক দিয়ে ম্যাচ জেতার পথে আছে।’

এর আগে লিটনের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছিলেন হার্শা ভোগলে। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেননি লিটন। তবে টেস্ট ফরম্যাটে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এবার তার প্রশংসা করে হার্শা এক টুইটবার্তায় বলেন, লিটনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখতে পাওয়া অনেক আনন্দের।’ 

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। আর ম্যাচ বাঁচাতে প্রাণপন লড়ছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। স্বপ্ন, চোখের ভ্রম কিংবা লেখার ভুল নয়, এটিই এখন বাস্তবতা।