ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মাদ্রাসায় আরবির পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা চর্চায় জোর দিতে হবে। এ ভাষায় পারদর্শীতা অর্জন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা বহির্বিশ্বের উপযোগী হয়ে উঠবে এবং দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রামের পটিয়ায় শাহচান্দ আউলিয়া মাদ্রাসার সভাকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিখলে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, তথ্যপ্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারবে। এ ভাষা জানা থাকলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইসলামের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারবে এবং ইসলাম ধর্মকে বিশ্বে তুলে ধরতে পারবে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাইফুদ্দিন খালিদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী ফারহানুর রহমানসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইবি/একে

পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনকে যদি সফল করতে হয়, কার্যকর করতে হয় সেক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং জলবায়ু সম্পর্কে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস যত বেশি স্মার্ট করা যায় এখানেই আমাদের সরকারকে অনেকটা টাকা বিনিয়োগ করতে হবে করতে হবে। অর্থ, মেধা, শ্রম সবই  বিনিয়োগ করতে হবে।  যোগাযোগ বাড়াতে হবে, নেটওয়ার্কিং করতে হবে। কারণ আপনি যদি সত্যিকার অর্থে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি রাখতে চান তাহলে এখানেই আমাদের প্রধান কাজ হতে পারে। এখানে আমাদেরকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে। দুর্যোগ প্রস্তুতিটাকে আমাদেরকে সত্যিকার অর্থেই শক্তিশালী করতে হবে।

উপদেষ্টা সোমবার (১৪ জুলাই) ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ এ সিগনিফিকেন্ট স্টেপ ফরওয়ার্ড ইন ফ্লাড প্রিপেয়ার্ডনেসঃ দ্যা অফিসিয়াল লঞ্চ অফ দ্যা ফ্লাড ফোরকাস্টিং এন্ড ওয়ার্নিং সেন্টার’স (এফএফডব্লিউসি) আপগ্রেডেড ওয়েবসাইট এন্ড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেয়ার একটা উপায় হচ্ছে সতর্কবার্তাগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে এক্সিলেন্স গড়ে তোলা।

পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, নোয়াখালীর মুছাপুর রেগুলেটরের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের মধ্যেই করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

তিনি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটরের ভিত্তিপ্রস্তর আমরা আমাদের সময়ে করে দিয়ে যেতে চাই। আর এজন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন সার্কেলের সংশ্লিষ্টদের আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণের চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

উপদেষ্টা (বুধবার ২৮ মে) বিকেলে ঢাকায় পানি ভবনের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের মাসিক আরএডিপি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, অফিসারদের মধ্যে যারা সৎ, জনবান্ধব, আন্তরিক ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন তাদেরকে পরবর্তীতে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।

উপদেষ্টা নদী ভাঙ্গনের সময়, মানুষের বিপদের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত সাড়া দেয়ার নির্দেশ দেন যাতে করে মানুষ তখন আশ্বস্ত থাকে যে সংস্থাটি মানুষে পাশে রয়েছে। পানি সম্পদ উপদেষ্টা ঈদের সময় নদীভাঙ্গন প্রবণ এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী প্রয়োজনে ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন।

সভায় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৭টি বিভাগের ৭ টি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাজ গুণগতমান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

মন্ত্রণালয়ের আরএডিপি পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পানি সম্পদ সচিব নাজমুল আহসান। এছাড়া সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ড.আ.ন.ম বজলুর রশীদ-সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, জোনের প্রধান প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী(অব.) বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশের আমের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আম রপ্তানী বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আম রপ্তানী উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো: মাহমুদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: ছাইফুল আলম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজমুন নাহার করিম উপস্থিত ছিলেন।

সংগৃহিত

কৃষি উপদেষ্টা বলেন, আমের উৎপাদন ও রপ্তানী বাড়াতে হবে। রপ্তানী বাড়াতে প্রকল্পের মাধ্যমে আম উৎপাদন করা হচ্ছে। আম চাষীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কৃষি প্রণোদনা দেয়া হবে। স্বল্প মূল্যে হর্টিকালচার সেন্টার হতে কৃষকরা উন্নত জাতের আমের চারা পাবেন। প্রণোদনার মাধ্যমে হর্টিকালচার সেন্টারে আমের চারা উৎপাদন বাড়াতে উপদেষ্টা নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে আম চাষী ও রপ্তানীকারকগণ বাগানে আমের ব্যাগিং, প্যাকিং, পরিবহন, প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানালে উপদেষ্টা বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, আজ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইন এ পাঁচটি দেশে ১৩ টন আমের চালান যাচ্ছে।

নবজাতকের ভবিষ্যত রোগ নির্ণয় ও সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ) এর ৭ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৫ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম যা বাংলাদেশের নবজাতক বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের ৭ম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ২৩-২৪ এপ্রিল ২০২৫ইং তারিখে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র আগারগাঁও এ অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের আগে দিন ২২ এপ্রিল নবজাতকদের পুষ্টি এবং কিভাবে রিসার্চ পেপার শিখতে হয় এর উপর দুটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে সারাদেশ থেকে ৭ শত ২১ জন নবজাতক বিশেষজ্ঞ এবং ৪ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ তাদের বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘Quality Newborn Care at Facility and Home: A pathway to Healthier Future’. সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক এমকিউ-কে তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ এর ডেপুটি বাংলাদেশ প্রতিনিধি এমা ব্রিগ্রাম (Emma Brigham) ও বিএনএফএর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক নাজমুন নাহার। সভাপতিত্ব করেন বিএনএফএর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন। ফোরামের মহাসচিবের বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনএফ এর সহ-সভাপতি অধ্যাপক সুখময় কংস বনিক।

সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে Unicef, Save the Children, Projhanmo, Research Foundation, Icddr’b Orbis, Noora Health তাদের গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে একটি পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পলিসি সেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘নবজাতকের পায়ের গোড়ালীর রক্ত পরীক্ষা করে ভবিষ্যৎ রোগ নির্ধারণে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’। উক্ত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপাস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের মাননীয় সচিব ডা. মোঃ সারওয়ার বারী। এই অনুষ্ঠানেও সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন, সভাপতি, বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বিএনফএর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নান।

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইতালি সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত Antonio Alessandro সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী Matteo Piantedosi-এর আসন্ন বাংলাদেশ সফর (আগামী ০৫-০৬ মে), অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা, পুলিশ ও বিজিবি’কে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি সহ দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ইতালি বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি বলেন, ইতালিতে কর্মরত বাংলাদেশীরা দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখছে। বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী দেশটিতে কাজ করছে। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আসন্ন সফরের মাধ্যমে সেখানে কর্মরত দক্ষ বাংলাদেশী কর্মীর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং এর মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও দৃঢ়তর হবে বলে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানান, সফরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ০৫ মে ২০২৫ তারিখে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে এবং তাঁর (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার) সঙ্গেও একটি দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেসময় উভয় পক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে অবৈধ অভিবাসন রোধ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, দু’দেশের পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা, ইত্যাদি বিষয়ে ঘোষণা/সমঝোতা স্মারক/চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সবসময় আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে বৈধ চ্যানেলে জনশক্তি রপ্তানিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমরা অবৈধ অভিবাসনের বিপক্ষে। ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে গমনের ক্ষেত্রে যেসব দালাল ও অবৈধ মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাষ্ট্রদূত এসময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য কামনা করেন এবং ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন) মোঃ শামীম খান, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব (রাজনৈতিক-১) মুঃ জসীম উদ্দিন খান, ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাচে Giuseppe Di Giovanni প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সর্বপ্রথম সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণাকারী হোটেলকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধে কক্সবাজারস্থ সকল হোটেল মালিকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, সন্তানদেরকে নির্মল বাতাসে নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, পলিথিন সস্তা না, এর বিনিময়ে আমাদের কঠিন মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে, ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তিনি এসময় পলিথিন শপিং ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাটের বা চটের ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, আদালত উপকূলীয় জেলাগুলোতে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি নিষিদ্ধ পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং করার জন্য নিয়মিত হোটেলে লোক পাঠানোর ডিসিকে নির্দেশনা দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সাথে মিলে ওয়ার্কপ্ল্যান প্রস্তুত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

উপদেষ্টা বলেন, পর্যটন আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। প্লাস্টিক দূষণ শুধু প্রকৃতিকে নয়, পর্যটনকেও হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে কক্সবাজার একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে পারে।

সভায় তিনি সমুদ্র তট ও আশপাশের এলাকায় সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব তুলে ধরেন এবং তা বন্ধে হোটেল মালিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক কক্সবাজারে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে পরিকল্পনা তুলে ধরেন। হোটেল মালিকগণও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন প্লাস্টিকের দূষণ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। তিনি জুলাই ২০২৫ এর মধ্যে কক্সবাজারের ৫০০ হোটেল ও ৩০০ হোটেলে বাস্তবায়ন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক করার উদ্যোগের কথা জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে জনবান্ধব ও যুগোপযোগী করতে টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ও বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্ট নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে। অল্প পরিবর্তনে কাজ হবে না। সময় ও বাস্তবতার চাহিদায় প্রয়োজনীয় কিছু রেখে নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজউকের বোর্ডে কেবল আমলা থাকলে চলবে না। বোর্ডে শহর পরিকল্পনায় দক্ষ বিশেষজ্ঞ রাখতে হবে। ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে কাজ করতে হবে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, রাজউক চেয়ারম্যানের রেসিডেন্সিয়াল ভবনকে কমার্শিয়াল করার ক্ষমতা রহিত হওয়া উচিত। মহাপরিকল্পনার বাইরে না গিয়েই বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের জন্য একটি নতুন ভিশন দরকার। সেই ভিশনে সিভিল সোসাইটি, রাজউক ও সাধারণ মানুষের মতামত প্রতিফলিত হওয়া উচিত। জনগণের সেবা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে, যাতে ঢাকার ওপর চাপ কমে।

তিনি বলেন, রাজউক কি ডেভেলপার না রেগুলেটর—তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হবে। রাজউককে আর হাউজিং করতে দেয়া যাবে না। গৃহহীনদের জন্য ঘরের ব্যবস্থা হতে পারে, ধনীদের জন্য নয়।

তিনি আরও বলেন, গোটা এলাকাভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। বেসরকারি হাউজিং নিয়ন্ত্রণের প্রয়াস আগে ছিল না, এখন তা জরুরি। রাজউককে রাজনৈতিক চাপে রাখা যাবে না।

তিনি পূর্বাচলের জমি ধ্বংসের সমালোচনা করে বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের জন্য হাউজিং করার যৌক্তিকতা নেই। রাজউককে জাতীয় ও নির্মিত ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন রাজউকের দায়িত্ব। রাজউকের ভবনটিও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের এক্সিট প্ল্যান থাকতে হবে। রাজউক ও এস্টেট ডিপার্টমেন্টকে জনসেবামুখী হতে হবে। সেবা ডিজিটালাইজ করতে হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। সুপারভিশন আউটসোর্স করতে হবে। বাইরের বিশেষজ্ঞ দিয়ে অডিট করাতে হবে।

তিনি বলেন, তোতাইল বিলের মতো জলাশয় পুনঃখনন করতে হবে। হাউজিং প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও মনিটরিং চালু রাখতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। এলাকা না বাড়িয়ে সুপারভিশন বাড়াতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে তাদের কাজ করতে দিতে হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নজরুল ইসলাম, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলামসহ রাজউকের কর্মকর্তাগণ বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো “চীন-বাংলাদেশ পিপল-টু-পিপল এক্সচেঞ্জ ইয়ার: ইউনান এডুকেশন এ্যান্ড হেলথ প্রমোশন” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী। চীনের ইউনান প্রদেশের সরকার ও ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং সহ-আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

রোববার (২০ এপ্রিল) অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনের ইউনান প্রদেশের গর্ভনর ওয়াং ইউবো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাথে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্মাক্ষর হয়।

এই সমঝোতা স্মারক (MoU) স্মারক হওয়ায় চীন-বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখতে সক্ষম হবে। যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি শেয়ার এবং স্কলারশিপ প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হবে এই এমওইউ এর মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ এবং চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বিষয়ে চীনের অগ্রগতি বাংলাদেশকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবে। এই অনুষ্ঠান দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কে আরও গভীর করবে এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

চিকিৎসকরা আরো মনে করেন, রোগ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, টেকনিক্যাল ট্রেনিং, যৌথ গবেষণা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে। চীনের ইউনান প্রদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক উন্নয়ন ও বোঝাপড়া গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে আজকের অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্বগণ এ ধরণের আয়োজন চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন উন্মেচিত করেছে বলে উল্লেখ করেন। এই আয়োজন শিক্ষা খাতে সহযোগিতা যেমন ইউনান প্রদেশের সাথে যৌথ গবেষণা, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, স্কলারশিপ ও শিক্ষা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হওয়া, স্বাস্থ্য খাতে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

আজকের আয়োজন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে বিজ্ঞ আলোচকগণ বলেন, ইউনান প্রদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের ধারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলা, ইউনান প্রদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা, ছাত্র ও শিক্ষকদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালনা, স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ব্যবস্থা জোরদার করা, দুই দেশের সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং দূতাবাসের সমন্বয়ে যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা এবং সর্বোপরি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে এই উদ্যোগ বিরাট ভূমিকা রাখবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। বিশেষ করে উপকূলীয়, পাহাড়ি এবং খরা প্রবণ এলাকাগুলোর মানুষের জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই এবং বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে “জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন কর্মকাণ্ড” বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় অভিযোজনমূলক প্রকল্প গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অভিযোজন কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অভিযোজন কাঠামো গড়ে তুলতে আমরা সকলে একযোগে কাজ করব।

সভায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, যুগ্মসচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) ধরিত্রী কুমার সরকার-সহ মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযোজন বিষয়ক বর্তমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।