পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জুলাই-আগষ্টের ছাত্র-অজনতার অভ্যুত্থানে নতুনভাবে সূচনা হয়েছে, নতুন অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। সেই অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেরাই বৈষম্যহীন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। বৈষম্যহীন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করতে মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ব্যবহার করে উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। মহান বিজয় দিবসের লক্ষ্য বৃহত্তর।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র উদ্যোগে ‘বিজয় দিবসের প্রত্যাশায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে
পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এইসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে নতুন পরিচয়ে প্রকাশ করেছে। বিশ্বসেরা ম্যাগাজিন ‘বাংলাদেশ’কে বর্ষসেরা দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই দেশকে এগিয়ে নিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা এগিয়ে আসবে। নতুনভাবে পরিচিত হবে বাংলাদেশ। জাতির বিকাশে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন সেই প্রত্যাশা।

যাকাত বোর্ড হতে চলতি অর্থবছরে দরিদ্রদের মাঝে ১১ কোটি টাকা বিতরণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৪)  ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত যাকাত বোর্ড হতে চলতি অর্থবছরে দরিদ্রদের মাঝে এ অর্থ বিতরণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বোর্ডের চেয়ারম্যান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যাকাত বোর্ডের ৬৪তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

জুলাই বিপ্লবের পর নবগঠিত যাকাত বোর্ডের এ সভায় বোর্ডের কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার বিষয়ে বোর্ডের সদস্যরা ঐকমত্য পোষণ করেন। যাকাত বোর্ডের সাথে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও যাকাত ফান্ডে অর্থ প্রদানে সম্ভাব্য যাকাতদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, যাকাত ফান্ড নীতিমালা সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য বোর্ডের সদস্য চট্টগ্রামের দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা প্রবীণ মুহাদ্দিস শায়েখ মুফতি জসিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসভায় বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, বোর্ডর সদস্য অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা ও আইন) মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (ড্রাফটিং) মোঃ শাহিনুর ইসলাম, বিকেএসইএ’র সভাপতি মুহম্মদ হাতেম, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফী মিজানুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিথিন-প্রযুক্তির বিকল্প উদ্ভাবনের জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা উচিত। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বড় পরিবর্তন সম্ভব।

আজ সোমবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) আয়োজিত ‘কপ ২৯: এক্সপেকটেশন, রিয়ালিটি এন্ড লেসনস ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থনৈতিক মডেল পুনর্বিবেচনা জরুরি। আমাদের জনগোষ্ঠিকে বাঁচাতে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, বাজেট বাড়াতে হবে এবং সেই বাজেট যেন সঠিক জায়গায় ইউটিলাইজ করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ক্লাইমেট ফাইন্যান্সের কোনো আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা নেই। এই তহবিল প্রকৃতপক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়তা করছে না।

তিনি আরো বলেন, বায়ু দূষণের ২৮% আসে পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে, যা এখনো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। পরিবেশগত ন্যায্যতা অর্জনের জন্য আমাদের জলবায়ু ন্যায্যতার পাশাপাশি কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে কৃষিজমি কমছে, নদীগুলো দূষিত। এগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আমাদের অভিযোজন ক্ষমতা কমছে। রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধান পাওয়া কঠিন। তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে এবং সঠিক বার্তা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তৃতা করেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপার্সন স্থপতি মাহবুবা হক এবং ইউএপির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুমরুল আহসান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. এম.এ. বাকি খলিলি। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন শাখার পরিচালক শওকত আলী মির্জা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী, পরিবেশ আইনজীবী হাফিজ খান, সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা”র সদস্য সচিব শরীফ জামিল

ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। প্রায় ১৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পানি নেমে আসে পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী দিয়ে। এই পানির মাত্র শতকরা ৮ ভাগ নিষ্কাশন এলাকা বাংলাদেশের অন্তর্গত। অধিকাংশ নিষ্কাশন অববাহিকা প্রতিবেশী দেশসমূহে অবস্থিত। বিশাল প্রবাহসহ নদ-নদীসমূহের গতি বাংলাদেশ ব-দ্বীপে হ্রাস পাওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে একটি অত্যন্ত পুরু পাললিক স্তর গঠন করে বাংলাদেশ গড়ে উঠে।

নিম্নোক্ত বিষয়গুলি পরিবেশগত দিক থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ করেছে: ১. অসংখ্য নদী, তাদের শাখা-প্রশাখা দ্বারা জালের ন্যায় বিস্তৃত বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপগুলির একটি; ২. অত্যন্ত পুরু পলিস্তর (বিশ্বে সবচেয়ে পুরু) দ্বারা গঠিত দেশটির সাধারণ ভূপৃষ্ঠ অত্যন্ত নিম্ন-উচ্চতাবিশিষ্ট; ৩. বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও দীর্ঘতম বালুময় সৈকত; ৪. বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অত্যধিক চাপ; ৫. আর্দ্র ও শুষ্ক মৌসুমে (বন্যা ও খরা) ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির প্রাপ্যতার পরিমাণের মধ্যে ব্যাপক তারতম্য; এবং ৬. বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পানির প্রবাহের ব্যাপকতা।

বাংলাদেশের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেশটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত সমস্যাপ্রবণ করে তুলেছে। এদেশের ভূমি বহুলাংশে নিম্ন-প্লাবনভূমি। ভূমির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, ভৌগোলিক অবস্থান, অসংখ্য নদ-নদী ও মৌসুমি জলবায়ু বাংলাদেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাপূর্ণ করে তুলেছে। বন্যা ও খরার চরমমাত্রা বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য। এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অর্জনে বিরাট বাধা হিসেবে কাজ করে।

বাহ্যিক পরিবেশ জলবায়ু-  বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য ঋতুবৈচিত্র্যসহ উষ্ণমন্ডলীয় মৌসুমি জলবায়ু বিরাজমান। বর্ষা মৌসুমে (জুলাই-অক্টোবর) প্রচুর বৃষ্টিপাতের পর আসে শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি), তারপর গরম (মার্চ-জুন)। গ্রীষ্মকালে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সে এবং সর্বনিম্ন ২১° সে। শীতকালে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সে এবং সর্বনিম্ন ১১° সে।

এ অঞ্চলের বৃষ্টিপাতে সময় ও স্থানগত ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের ৭০% থেকে ৮০% হয় মৌসুমি ঋতুতে। গ্রীষ্মের পর ভারত মহাসাগর থেকে মৌসুমি উষ্ণ আর্দ্র বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং বিশ্বের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ঘটায়। এসব বৃষ্টিপাত প্রধানত সংঘটিত হয় উঁচু উজান অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্ব পশ্চিমে প্রায় ১,১০০ মিমি থেকে উত্তর-পূর্ব পার্শ্বে প্রায় ৫,৭০০ মিমি। হিমালয়ে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২,০০০ থেকে ১৫,০০০ মিমি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকার প্রধানকে নিয়ে সমালোচনা করার জন্য এক অ্যাডমিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করায় বেশ সমালোচনার ঝড় বইছে ইউনুস সরকারকে নিয়ে। বলা হচ্ছে স্বৈরাচার সাবই। এরমধ্যেই নতুন করে সোস্যাল মিডিয়ায় সেই নারী কর্ম কর্মকর্তাকে নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মেহেদী হাসান নামে এক এক্টিভিস্ট তুলে ধরেছেন আদ্যপান্ত। ইকোবার্তার মাধ্যমে তা তুলে ধরছি–

’প্রধান উপদেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলা ও শ’হী’দ আবু সাইদকে ‘স’ন্ত্রা’সী’ আখ্যা দেয়া বিসিএস ৪০ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা তাপসী তাবাস্‌সুম ঊর্মিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তার উপর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এত প্রস্তুতি নিয়ে এত কষ্ট করে পাওয়া বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের চাকরিটা খোয়াবেন জানার পরেও কেন তিনি এই ধরনের কাজ করলেন?

হাজার হোক, এই দেশের প্রেক্ষাপটে প্রসাশন ক্যাডারে চাকরি পাওয়া অত সোজা নয়। তিনি ২০১৫ সালে SUST এর সিএসই (২০১০ ব্যাচ) থেকে গ্র‍্যাজুয়েশনের পর ২০২২ সালে এই চাকরিতে যোগ দেন। অর্থাৎ, পাশ করার পর থেকে প্রশাসনে যোগ দিতে তার সময় লেগেছে ৭ বছর।

আসল কথা হল, এই চাকরি না করার সিদ্ধান্ত তিনি অনেক আগেই নিয়ে ফেলেছেন। তিনি ঠিক করেছেন এই দেশে আর ক্যারিয়ার গড়বেন না। তাই যত দ্রুত সম্ভব তিনি এই চাকরি ত্যাগ করে যাওয়াটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তাকে পাসপোর্ট গ্রহনের জন্য NOC দেয়া হয়। তার মানে তিনি পাসপোর্টের আবেদন আরো আগেই করেছিলেন। এছাড়াও তিনি কয়েকদিন আগে “Higher Study Abroad” গ্রুপে নিজের আইডি থেকে জয়েন করেন।

দ্রুত চাকরি থেকে বের হতে পারার পাশাপাশি বাইরে ভিসা পাওয়া বা প্রয়োজনে অ্যাসাইলাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী করতে তাপসী তাবাস্‌সুম ঊর্মিকে একটু extreme measure নিতে হয়েছে। প্রথমে জনরোষ তৈরী করতে তিনি আবু সাইদকে স’ন্ত্রা’সী বললেন। কিন্তু তার অখ্যাত প্রোফাইলের জন্য সেটা বেশি মানুষের কাছে পৌছায়নি।

পাত্তা না পেয়ে এবার টার্গেট করলেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা ও গোটা উপদেষ্টা পরিষদকে। প্রজাতন্ত্রের একজন জুনিয়র কর্মকর্তা হয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে অসাংবিধানিক বলা ও তার বিদায়ঘন্টা বাজানোর ঘোষণা দেয়া সাড়া ফেলতে বাধ্য। তার উদ্দেশ্য সফল হল। দেশের গণমাধ্যম হুমড়ি খেয়ে এই সংবাদ প্রচার করল, ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিল, একদিনের মধ্যে ওএসডি ও ২ দিনের মধ্যে বরখাস্তও হয়ে গেলেন।

এখন কেউ একজন তাকে আ’ক্র’ম’ণ করার হু’ম’কি দিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিলেই তিনি সুরসুর করে অ্যাসাইলাম নিয়ে ফ্লোরিডার বিচে হাওয়া খেতে পারবেন। তা না হলেও সমস্যা নেই। স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষার ভাল যোগ্যতা তার আছে, Google Scholar এ সার্চ করলে সাস্টে থাকাকালীন তার NLP (Natural Language Processing) এর উপর গবেষণাপত্রগুলো পেয়ে যাবেন।

আশা করা যায়, তাকে আমরা খুব দ্রুত বাইরের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকরূপে দেখব, সেজন্য আগাম শুভকামনা রইল। জীবনের লক্ষ্যে পৌছাতে মানুষ অনেক ধরনের পথ বেছে নেয়, কিন্তু তিনি কাজটা এভাবে না করলেও পারতেন।

এখন প্রশাসনের উচিত জুলাই অভ্যুত্থানে তার কি ভূমিকা ছিল এবং ওই সময়ে তিনি কিভাবে তার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন তা তদন্ত করা। এছাড়াও প্রসাশনে থেকে গত দুই বছরে তার দুর্নীতির কোন রেকর্ড আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত।

লিখেছেন – স্যোসাল এক্টিভিস্ট- মেহেদী হাসান মুয়াজ (Mehedi Hasan Muaz)

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের শহিদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মতৎপরতার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তার বক্তব্যে তিনি পরিবেশ সংসদের সদস্যদের উৎসাহিত করেন এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

মিশন গ্রিন বাংলাদেশের আহ্বায়ক আহসান রনি তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ সংরক্ষণের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম হলো বনাঞ্চল হ্রাস, বায়ু ও জলদূষণ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে শুধু সরকার নয়, জনগণেরও সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও শক্তি কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের দেশের পরিবেশ রক্ষা করতে পারি। এই ধরনের সবুজায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ একটি জনগণমুখী পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্যোগ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এর লক্ষ্য পরিবেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিবেশ বিষয়ক নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রতিযোগীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, কর্মসূচির অংশ হিসেবে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। ‘সবুজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে সবুজায়ন বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা।

‘দ্য মুসলিম ৫০০: বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০২৪ সালের আম্মানের রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার প্রকাশিত এই তালিকায় বৈশ্বিক মুসলিম সমাজে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

এ বছর প্রভাবশালী মুসলিমদের তালিকায় শীর্ষ ৫০ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র অর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছে।

এ বছর ‘দ্য মুসলিম ৫০০’ তালিকাটি ধর্মীয়, রাজনৈতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতি, এবং ক্রীড়া ও বিনোদন—এই পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মুসলিমদের চিহ্নিত করেছে। ড. ইউনূসের অন্তর্ভুক্তি তার বহুমুখী ভূমিকার প্রতিফলন, যা তাকে একজন অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও সমাজসংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেছে।

২০০৯ সাল থেকে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৫ (পাঁচ) কোটি পিস ডিমের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বাজারে ঘাটতি থাকায় বাড়ছে দাম।

ডিমের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সাময়িকভাবে সীমিত সময়ের জন্য ৭টি প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিম আমদানির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক আদেশে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ আদেশ দেয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুমতি অব্যাহত থাকবে।

থেমে নেই সিগারেট কোম্পানিগুলোর লাভের পরিমাণ। সংকটকালীনও বছরের তৃতীয়ার্ধে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (ব্যাট) লাভ হয়েছে ৪০৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তৃতীয়ার্ধে ছিল ২৯৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

লাভের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও বেড়েছে ব্যাটের শেয়ারের দাম। ২০২১ সালে যেখানে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আয় ছিল ৫ দশমিক ৪৫ টাকা, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৯ টাকা।

সম্প্রতি ব্যাটের একটি খসড়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির লাভ হয়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে এ লাভের অঙ্ক ছিল ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে ব্যাটের প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছিল ৬৮ দশমিক ১৩ টাকা, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দাম বেড়েছে ৭৭ দশমিক ৬৫ টাকা।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে তারা তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক বিবরণীর ওপর ভিত্তি করে একশ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দেবে; যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

রমজানের পূর্বে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মালদ্বীপের হাউসিং ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে নাইট বিজনেস শো।

মালদ্বীপের রাজধানীর পার্শ্ববর্তী আইল্যান্ড হূলোমালে অনুষ্ঠিত দশ দিনব্যাপী এই নাইট মেলায শুরু হয় ৯ মার্চ। এতে মালদ্বীপের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা ও অংশগ্রহণ করেন।

মেলায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা পার্ট টাইম কাজ করার সুযোগ মেলেছে। মেলায় প্রতিটি স্টলে বাংলাদেশী কর্মীরা রয়েছেন। যার ফলে, প্রবাসী বাংলাদেশী ক্রেতাদের দর-দাম ঠিক করেই নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রিক কিনতে সুবিধা হয়।

নিম্ন আয়ের প্রবাসীরা এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন। কারণ, মেলা ব্যতীত অন্যান্য সময় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অনেক বেশি। এই মেলায় রয়েছে, মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য জামাকাপড় ছাড়াও ইলেকট্রনিক্স আইটেম সহজ যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তু। যা অন্য সময়ের তুলনায় অর্ধে ক দামে কিনতে পারেন প্রবাসীরা।

মেলায় স্টলগুলোতে বাংলাদেশী খাবার প্রদর্শন করা হয়। এই খাবারের জন্য বাংলাদেশী প্রবাসীরা হুমরি খেয়ে ভিড় জমান।

মেলায় আসায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা মনে করেন, মেলার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই মেলাতে বাংলাদেশের প্রবাসীরা খুঁজে পায় তাদের দেশীয় কালচার সাথে সাথেই দেশীয় বিভিন্ন খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

প্রতিবেদন- ওমর ফারুক/মালদ্বীপ প্রবাসী