উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের গণভোটে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে চলা এই ভোটকে অনেকে দেশের গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটার পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি (তারেক রহমানের নেতৃত্বে) এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মধ্যে। একই দিনে গণভোটে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো—যেমন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার—জনমত যাচাই হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন, উৎসাহী ভোটারদের হাসিমুখ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন, যেন এটি কোনো উৎসব। দুপুর ২টা নাগাদ প্রায় ৩৬ হাজার কেন্দ্রে গড়ে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। এটি পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য, যদিও ঢাকায় কিছুটা কম ছিল। সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অভিযোগ—জাল ভোট, এজেন্ট বের করে দেওয়া—উঠলেও বড় ধরনের সহিংসতা বা গোলযোগের খবর নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা গণতন্ত্রের অঙ্গীকারকে প্রমাণ করেছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতারাও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন।
ভোটগ্রহণের পর গণনা চলছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল রাতের মধ্যে আসতে শুরু করবে, পূর্ণ ফলাফল শুক্রবার সকাল নাগাদ স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী দ্রুত ফল ঘোষণার চেষ্টা চলছে।


