ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিতের ঘোষণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ চলছে না—ট্রাম্পের এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময় কেনা। এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনার কারণে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘোষণার পর তেলের দামে তাৎক্ষণিক পতন ঘটে, ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেমি-অফিসিয়াল মেহর নিউজ এজেন্সি ও মিজান নিউজের বরাতে জানা যায়, তেহরান বলেছে: “তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো সংলাপ নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্য জ্বালানি দাম কমানোর চেষ্টা এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ক্ষেপণের কৌশল।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র—সুতরাং সব অনুরোধ ওয়াশিংটনের কাছেই পাঠানো উচিত।
এই ঘটনা যুদ্ধের শুরু থেকে চলা দ্বন্দ্বের নতুন মোড়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ। ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, কখনো ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ট্রাম্পের আগের হুমকি ছিল—প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধ্বংস’ করা হবে। ইরানের পাল্টা হুমকি ছিল—আক্রমণ হলে গাল্ফ অঞ্চলের সব জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করা হবে।
ইরানের এই প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘পশ্চাদপসরণ’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। ইরানি মিডিয়ায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’ কারণ ইরানের প্রতিরোধী হুমকির মুখে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দ্বন্দ্ব দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের অভাব বা মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন ওমান বা অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ) মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনার ইঙ্গিত দিতে পারে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া আসেনি।


