ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ভীতি আর শঙ্কা। দশ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, এই আসনে পরিকল্পিতভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং পদে পদে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, বরং ‘নতুন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এবারের ভোট হবে শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নীরব বিপ্লব। ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে আসতে ভয় পায়, সেই লক্ষ্যেই একটি পক্ষ মাঠ দখল করে রেখেছে। তবে মানুষ এবার দমে যাবে না; তারা একই দিনে দুই রায় দেবে—একটি পছন্দের প্রার্থীর জন্য, অন্যটি বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে।”
নাহিদ ইসলামের দাবি, নির্বাচনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের পরোক্ষভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং তাদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঢাকা-১১ আসনটি রাজধানীর বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা এলাকা নিয়ে গঠিত, যা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। এবারের নির্বাচনে দশ দলীয় ঐক্যজোটের অংশগ্রহণ সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ভোটার এবং যারা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে পরিবর্তন চান, তাদের একটি বড় অংশ নাহিদ ইসলামের দিকে ঝুঁকতে পারেন। আর এই জনসমর্থনই প্রতিপক্ষ শিবিরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা দেখছি, শুধু আমার এলাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই এক ধরনের গুমোট পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার মহড়া চলছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভয়ের দেয়াল এবার ভাঙবেই।”


