TT Ads

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, কিছু মানুষ ভোট দিতে না-ও যেতে পারেন—যা প্রতিটি নির্বাচনেই ঘটে থাকে।

রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি মহলে যখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার এই আশাবাদী বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। তিনি ধারণা করছেন, এবারের নির্বাচনে এই হার ছাড়িয়ে যাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “কিছু লোক ভোট দিতে না-ও যেতে পারে। এটা সবসময়ই হয়। প্রতিটি নির্বাচনেই কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। তবে এবার ভোট দিতে না যাওয়া লোকের সংখ্যা বেশি হবে কি না, আমি বলতে পারবো না।”

আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান

এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি প্রধান দল এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, জুলাই বিপ্লবের পর নতুন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ জনগণের মধ্যে বেড়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্যকে অনেকে সরকারের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে যদি ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে, তাহলে প্রায় ৭ কোটির বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এটি হবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটের হার ছিল রেকর্ড কম। সেই তুলনায় এবারের আশা অনেকের কাছেই ইতিবাচক মনে হচ্ছে।

একই অনুষ্ঠানে তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বদ্ধপরিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *