আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ নামে ৩৬ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই দলের ইশতেহারে তরুণদের ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এই ঘোষণা নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক মূলধারায় তুলে ধরার প্রয়াস।
এনসিপি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের হাত ধরে। এখন তারা ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে (জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন) যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু দলটি স্পষ্ট করে বলেছে, জোটের সঙ্গে থেকেও নিজস্ব সংস্কারের এজেন্ডা থেকে সরে আসবে না। ইশতেহারটি ১২টি বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়ে বিভক্ত, যার মধ্যে ৩৬টি দফাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, সত্যান্বেষণ ও সমঝোতা কমিশন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইশতেহারে বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি চোখে পড়ার মতো। পাঁচ বছরে ১ কোটি মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১০০ বিলিয়ন টাকার উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, ঘণ্টায় ১০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা বীমা ও পেনশন স্কিম চালু, কর ফাঁকি বন্ধ করে কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা—এসব প্রতিশ্রুতি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনমান উন্নয়নে ফোকাস করে। এছাড়া নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়া, এসএমই ও নারী-তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নগদপ্রবাহভিত্তিক ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও নারী ক্ষমতায়নে ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানে ৬ মাসের পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং ১ মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা, নারীদের জন্য ১০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন নিশ্চিত করা, একটি কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের সব সুবিধা প্রদান—এগুলো সমাজের দুর্বল অংশকে মূলধারায় আনার প্রতিশ্রুতি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, কৃষিতে সরাসরি ভর্তুকি, ন্যায্য পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা—এসব ক্ষেত্রেও বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে।


