TT Ads

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আর কোনো হত্যাকাণ্ডের খবর যেন না শোনা যায়।

রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই কথা জানান, যা দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনায় নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।

এদিন সকালে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে আসেন। নতুন সরকার গঠনের পর এটি ছিল তাঁর রুটিন সাক্ষাৎ, কিন্তু আলোচনায় সীমান্ত নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি হাইকমিশনারকে বিশেষভাবে বলেছি, সীমান্ত হত্যা যেন আর না হয়। বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে নিয়মিত বৈঠক চালিয়ে যাওয়া দরকার, যাতে এমন ঘটনা যতটা সম্ভব এড়ানো যায়।”

বাংলাদেশ-ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা স্থলসীমান্তগুলোর একটি। এই সীমান্তে গত কয়েক দশকে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফ-এর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। গরু চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্যান্য কারণে এসব ঘটনা ঘটে, যা দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরায়। বিশেষ করে ২০১০-২০২০ সালের মধ্যে হত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা কমলেও, এখনও প্রতি বছর কয়েকজনের মৃত্যুর খবর আসে, যা সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জন্মায়।

এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত, নিরাপত্তা সহযোগিতা—সবকিছুতেই গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। ভারতীয় পক্ষ ভিসা সেবা ধাপে ধাপে পুরোপুরি চালু করার আশ্বাস দিয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ‘কো-অর্ডিনেশন কনফারেন্স’ শুরু হয়, যাতে এসব ঘটনা কমানোর চেষ্টা করা হয়। তবে অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে, মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সরাসরি বার্তা এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের সাড়া দেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নতুন সরকারের অধীনে এই ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *