TT Ads

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি), স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সদস্যপদ ত্যাগের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ছিল অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে ডব্লিউএইচও-র বাজেটে সবচেয়ে বড় জোগানদাতা দেশ হিসেবে তাদের এই প্রস্থান সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থাকে সংস্কারের সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ডব্লিউএইচও এখন একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মার্কিন জনগণের করের অর্থ এমন কোথাও ব্যয় হবে না যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।”

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে নিজস্ব ‘হেলথ ফার্স্ট’ নীতিতে চলবে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক কোনো সংঠনের খবরদারির চেয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা জনস্বাস্থ্যের জন্য বেশি জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে আসেনি। কয়েক বছর ধরেই ডব্লিউএইচও-র ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং নীতি নির্ধারণে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলছিল ওয়াশিংটন। বিশেষ করে মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটির ব্যর্থতা এবং তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ডব্লিউএইচও সংস্কারের চেয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এই প্রস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে, যা এখন অভ্যন্তরীণ জনস্বাস্থ্য ও দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য চুক্তিতে ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি, পোলিও নির্মূল এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের মতো প্রকল্পগুলো বড় ধরনের অর্থ সংকটে পড়তে পারে। ডব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ওয়াশিংটনকে পুনরায় বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প-পরবর্তী এই বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আন্তর্জাতিক বহুস্তরীয় (Multilateral) সংস্থাগুলোর চেয়ে দ্বিপাক্ষিক (Bilateral) সম্পর্কের ওপর বেশি জোর দেবে। এই প্রস্থান কেবল স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা—যেখানে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে বিশ্বমঞ্চে সবার উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *