যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ৫৫০ জন ছাড়িয়েছে।
সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটি বলছে, দেশজুড়ে ব্যাপক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো ও জনবহুল অঞ্চল ক্ষতির মুখে পড়েছে। হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কারণ বহু এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের কাজ চলছে। আহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক থাকলেও, মানবিক সংকট যে দ্রুত গভীর হচ্ছে—তা স্পষ্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, রেড ক্রিসেন্টের মানবিক মিশনের নেতৃত্বে উদ্ধার তৎপরতা বিরতিহীনভাবে চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রয়েছে এবং দেশজুড়ে ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী পূর্ণ সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।
এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি নেটওয়ার্ক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করা হয়েছে, কারণ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো শহরে হামলা ইরানের ভেতরে ব্যাপক অবকাঠামোগত চাপ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিছু এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল সামরিক সংঘাতের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এর মানবিক প্রভাব দ্রুত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে। শরণার্থী সংকট, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার নিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জোরদার হচ্ছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত মেলেনি।


