মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এই আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছায় তুরস্কের ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল জার্মানির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। তাদের আগমনে শরণার্থী শিবিরগুলোতে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, যদিও সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিলাল এরদোয়ান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তুরস্ক সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই চাপ অব্যাহত রাখবে।”
বিলাল এরদোয়ান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তুরস্ক শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোচ্চার। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্য একটি দেশে আশ্রয় দিয়ে রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসেছি এই মজলুম মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখতে এবং তাদের কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে।”
তার সফরসঙ্গী হিসেবে মেসুত ওজিলের উপস্থিতি বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ফুটবল মাঠের এই জাদুকরকে কাছে পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। মূলত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে পুনরায় আন্তর্জাতিক শিরোনামে নিয়ে আসাই এই সফরের অন্যতম প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


