গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত রাখতে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে ৮১ ঘণ্টা বা চার দিন অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটের আগে ও চলাকালে বহিরাগতদের উপস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায় বলে মনে করছে কমিশন।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে ভোটের দিন বা তার আগের সময়ে বাইরের এলাকা থেকে লোকজন এনে শক্তি প্রদর্শন, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা ঠেকাতেই এবার আগে থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সাধারণ ভোটাররা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াত করতে পারবেন, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা দলীয় প্রভাব বিস্তারের মতো কার্যক্রমে বাইরে অবস্থান করা যাবে না। প্রশাসন সন্দেহজনক উপস্থিতি বা অযৌক্তিক জমায়েত পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে এটি একটি ‘প্রিভেন্টিভ’ বা আগাম পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগে কয়েকদিন এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোটের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত থাকবে। তবে এর প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার বিবেচনা করাও জরুরি। অযথা হয়রানি বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে উল্টো অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সময়টিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। প্রচারণা, মিছিল-মিটিং, দলীয় শক্তি প্রদর্শন—এসব কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে। ফলে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর।


