নির্বাচনী আবহে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের বৈধতা নিয়ে নিজের দেওয়া বক্তব্য ভুলভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্যকে ‘মিসকোট’ করা হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদাহানি ঘটিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কতিপয় সংবাদপত্রে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ইসি সচিব বলেছেন—বৈধ খাত দেখাতে পারলে নির্বাচনের আগে ৫ কোটি টাকা বহনেও কোনো আইনি বাধা নেই। এই মন্তব্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠলে আজ কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বেশ কড়া সুরে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার একটি বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুল প্রেক্ষাপটে এবং বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। ‘৫ কোটি টাকা বহন করলেও বাধা নেই’—এমন কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আমি করিনি। এই ধরনের অপপ্রচার কেবল আমার জন্য অপমানজনক নয়, বরং পুরো নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আইন অনুযায়ী নগদ অর্থ বহনের নির্দিষ্ট সীমা এবং নিয়ম রয়েছে। আমি সেই নিয়মের বাইরে কোনো কথা বলিনি। অনুগ্রহ করে এই ধরনের সংবেদনশীল সময়ে কোনো ভিত্তিহীন অপতথ্য ছড়াবেন না।”
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত নেতার বিপুল অর্থসহ আটক হওয়া এবং দেশজুড়ে নির্বাচনী কালো টাকা ব্যবহারের আশঙ্কার মধ্যেই ইসি সচিবের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ ভাইরাল হয়। সচিব জানান, তিনি মূলত বৈধ ব্যবসার লেনদেন এবং যথাযথ নথিপত্র থাকার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছিলেন। কিন্তু সেটিকে রাজনৈতিক মোড়ক দিয়ে ‘৫ কোটি টাকার ছাড়পত্র’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো নগদ লেনদেন বা অর্থ পরিবহন নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতিটি চেকপোস্টে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।


