ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধুলোবালি এখন থিতু হয়ে এসেছে। চারদিকে বইছে জয়ের আনন্দ আর উৎসবের মেজাজ। তবে সব উৎসবকে ছাপিয়ে এখন রাজনীতির অন্দরমহল থেকে শুরু করে চায়ের কাপের ঝড়—সবখানেই একটিই প্রশ্ন: কারা হচ্ছেন নতুন সরকারের সারথি? আজ শনিবার নির্বাচনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও বঙ্গভবন এলাকায় সাজ সাজ রব। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, অভিজ্ঞতার ঝুলি আর আধুনিক প্রজন্মের স্পন্দন মিলিয়ে একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মন্ত্রিসভা উপহার দিতে যাচ্ছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভা সাজানো হচ্ছে দীর্ঘদিনের ত্যাগী রাজনীতিক এবং রাজপথ কাঁপানো তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে। তালিকায় সম্ভাব্য ৪১ জন সদস্যের নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির দীর্ঘ সময়ের কাণ্ডারি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া দলের ‘থিংক-ট্যাঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ড. আবদুল মঈন খান এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশ্বস্ত মুখ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক মামলা ও সাংবিধানিক সংকটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার আইন মন্ত্রণালয়ে একঝাঁক ঝানু আইনজীবীকে দেখা যেতে পারে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এছাড়াও রাজপথ ও আদালত—উভয় মাঠেই সক্রিয় থাকা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ-এর নামও শোনা যাচ্ছে জোরালোভাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে মহাপরিকল্পনা তারেক রহমান দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এই আইনি মস্তিষ্কগুলো হবে সরকারের বড় শক্তি।
এবারের নির্বাচনের বড় নির্ণায়ক ছিল জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। আর তাই নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে যারা মূলত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করবেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি প্রযুক্তি-নির্ভর ও উচ্চ শিক্ষিত পেশাজীবীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়ে তারেক রহমানের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে।


