জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুড়িগ্রামের সাধারণ ঘর থেকেই আগামীর প্রধানমন্ত্রী উঠে আসতে পারেন। কুড়িগ্রামে এক জনসভায় তিনি এই বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস জাগানোর আহ্বান জানান।
জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। অথচ এই অঞ্চলের মানুষ পরিশ্রমী, মেধাবী ও সম্ভাবনাময়। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্ব পেলে উত্তরবঙ্গ শুধু দেশের খাদ্যনিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি কুড়িগ্রামের জনগণের উদ্দেশে বলেন, “নিজেদের ছোট ভাববেন না। আপনাদের ঘর থেকেই আগামীর প্রধানমন্ত্রী বের হতে পারে।”
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ ছিল। ফলে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোর মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। জামায়াতে ইসলামী সেই চর্চা ভাঙতে চায় বলেই তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব তৈরির কথা বলছে। তাঁর ভাষায়, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে উঠলে অঞ্চল নয়, সারা দেশই উপকৃত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য আধুনিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাঁর মতে, “কৃষককে মর্যাদা না দিলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হতে পারে না।”
জনসভায় উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের যে বার্তা এসেছে, তা কুড়িগ্রামের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি বলেন, রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়; রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জীবনমান বদলের হাতিয়ার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে তিনি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এতে দলটির উন্নয়নভিত্তিক রাজনৈতিক ভাষ্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


