TT Ads

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। নতুন গভর্নর হিসাবে মোস্তাকুর রহমানে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি।

সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করলে তিনি সম্মতি দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক মহলে বড় আলোড়ন তুলেছে। ড. আহসান এইচ মনসুর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখন দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল—ডলারের দাম আকাশছোঁয়া, রিজার্ভের চাপ, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক অর্থনীতিবিদ হিসেবে অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছিলেন এবং মানি লন্ডারিং রোধ, ব্যাংকিং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বেড়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশ তাঁকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করে সংবাদ সম্মেলন করেন, যার জেরে কয়েকজনকে শোকজ ও বদলি করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে তিনি অফিস ত্যাগ করেন।

নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। অর্থনীতি ও আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে তাঁর একাডেমিক পটভূমি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ড. মনসুরের আমলে ব্যাংকিং খাতে কিছু সংস্কারের চেষ্টা হয়েছে, যেমন ঋণ পুনর্গঠন নীতি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, সংস্কারের গতি নিয়ে অভিযোগ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। নতুন সরকারের অধীনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রিজার্ভ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো—এসব চ্যালেঞ্জ নতুন গভর্নরের সামনে।

 

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *