পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরানের ইলাম প্রদেশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা। শনিবার ভোরে আইভান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় চালানো ড্রোন হামলায় ছয় মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে ।
ইরানের সরকারি গণমাধ্যম ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলার শিকার হয় একটি সাধারণ আবাসিক বাড়ি। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৬ মাসের এক শিশু এবং তার একই পরিবারের পাঁচ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে ।
প্রদেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-পরিচালক তাজউদ্দিন সালেহিয়ান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোররাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “একটি ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে একটি ছয় মাস বয়সী শিশু নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি।” তিনি আরও জানান, হামলায় কমপক্ষে আরও ৩১ জন আহত হয়েছেন এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে ।
বেসামরিক নাগরিকরাই হচ্ছে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত
এই হামলার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, এই সংঘাতে বেসামরিক মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বিচার হামলায় এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৪ হাজার ৯০৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং এখনও ১ হাজার ৪৪৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।
শিশু ও নারীদের ওপর এই হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী ১১টি শিশু নিহত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি ১৮ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরী। আহতদের চিত্রও কম ভয়াবহ নয়; দুই বছরের কম বয়সী ৪১টি শিশু আহত হয়েছে এবং ১৮ বছরের নিচে আহত শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। নারীদের ক্ষেত্রেও ক্ষয়ক্ষতি গুরুতর—এ পর্যন্ত ২২০ জন নারী নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন ।
পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সংঘাতের বিস্তার
এই ঘটনা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননেও ইসরায়েলের বিমান হামলায় শুক্রবার রাতে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৭৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৯৩৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘাতের কারণে ৮ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ।
এদিকে ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় সোহর প্রদেশে দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুই প্রবাসী শ্রমিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে । ইরাকেও মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং বাগদাদে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি ঘর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নিহত ও দুই আহতের খবর পাওয়া গেছে ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধারণক্ষমতা ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ইসরায়েলের জেনারেল স্টাফের সদর দফতরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ।


