রমজানের শেষ দিকে এসে ঢাকার নিউমার্কেটে ঈদ কেনাকাটার ধুম লেগেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সব মার্কেট। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এবং মার্চ মাসের বেতন হাতে আসায় অনেকেই আগেভাগে শপিং সেরে নিচ্ছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো যায়। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবার স্থিতিশীল থাকায় ব্যবসা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকার মানুষের কেনাকাটার উৎসাহ এবার লক্ষণীয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ সম্ভাব্য ২০ বা ২১ মার্চে পড়তে পারে, ফলে রমজানের এই সময়টাই কেনাকাটার প্রধান মৌসুম। নিউমার্কেটের গলি-গলিতে কাপড়, জুতা, কসমেটিকস, গয়না—সবকিছুর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে লম্বা লাইন। অনেক ক্রেতা বলছেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে মার্কেটে যানজট ও ভিড় বাড়ে, তাই এখনই সেরে নেওয়া ভালো।
নিউমার্কেটের বিভিন্ন ব্লক—যেমন চন্দ্রিমা, গাউছিয়া, নিউ সুপার মার্কেট—সব জায়গায় একই চিত্র। সকাল থেকে বিকেল অবধি ক্রেতারা ছুটে আসছেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে। কেউ বাসে, কেউ রিকশায়, কেউবা প্রাইভেট কারে। একজন ক্রেতা জানালেন, “বেতন পেয়েছি, তাই আজই এসেছি। শেষে এলে দাম বাড়ে, পছন্দের জিনিস পাওয়া যায় না।” আরেকজন গৃহিণী বললেন, “পরিবারের সবার জন্য কাপড় কিনতে হয়, তাই আগেভাগে শুরু করেছি।”
বিক্রেতাদের মুখেও আশার কথা। একজন কাপড়ের দোকানি বলেন, “গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা কম ছিল। এবার পরিস্থিতি ভালো, মানুষের হাতে টাকা আছে। ইফতারের পর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখছি। অনেক দোকানে ছাড়-অফার দিচ্ছি ক্রেতা টানতে।” আরেকজন জুতার ব্যবসায়ী যোগ করেন, “ঈদের আগের সপ্তাহে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। এখন থেকেই ভালো শুরু হয়েছে।”
এই কেনাকাটার উৎসাহ শুধু নিউমার্কেটেই সীমাবদ্ধ নয়। গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, চকবাজার—রাজধানীর অন্যান্য বাজারেও একই চিত্র। তবে নিউমার্কেটের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের কারণে এখানে ক্রেতাদের ঢল নামে। অনেকে বলছেন, দাম একটু বেশি হলেও পছন্দের জিনিস এখানেই মেলে। কিছু ক্রেতা অবশ্য দাম নিয়ে অভিযোগ করেছেন—বলছেন, রমজানে দাম বেড়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে কেনাকাটার গতি ইতিবাচক।


