TT Ads

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন সর্বকালের সর্বোচ্চ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে, তখন তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। কিন্তু স্বাভাবিক চিত্রের উল্টো চিত্র দেখা গেছে দেশের মানুষের আচরণে।

সংকটের এই সময়ে সাশ্রয়ী না হয়ে বরং জ্বালানি তেলের চাহিদা ও মজুত বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। গত মাসের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় চলতি মাসে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রি বেড়েছে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে জ্বালানি তেলের চাহিদা কম থাকে। কিন্তু এবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। সারাদেশের পাম্প ও ডিপোগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুম শেষ হতে চললেও ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রিও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় সরকার দেশের বাজারেও দাম বাড়াবে—এই আশঙ্কা থেকেই এই কৃত্রিম মজুতের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী সবাই ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে এই ভয়ে এখনই বেশি করে তেল কিনে মজুত করছেন। বিপিসি এই অবস্থাকে ‘প্যানিক ডিমান্ড’ বা আতঙ্কের চাহিদা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিপিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাজারে সরবরাজ স্বাভাবিক আছে। আমরা পর্যাপ্ত মজুত রেখেছি। কিন্তু মানুষ যেভাবে আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনছে, তাতে সাময়িকভাবে কিছু পাম্পে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ মানসিক একটি বিষয়। এই প্যানিক কেটে গেলে পরিস্থিতি নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

জ্বালানি তেলের বাজারে এই কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি। গত দুদিনেই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে তিনটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এতে এসেছে প্রায় ৮৫ হাজার টন ডিজেল। ইতিমধ্যে একটি জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। বাকি দুটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, সামনের দিনগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও জাহাজ আসার কথা রয়েছে। বন্দরে জাহাজ জট ও খালাস প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। পাশাপাশি সারাদেশের ডিপোগুলোতে তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। কোনো ধরনের সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *