জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ ব্যয় সংকোচনের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশকে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি আমদানি ব্যয় আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
অফিস সময় কমানো হলে বিদ্যুৎ খরচ কমবে, যানবাহনের ব্যবহার হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
নতুন সময়সূচি
বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
- সরকারি ও বেসরকারি অফিস: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
- ব্যাংক: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
এর ফলে প্রতিদিন অফিস সময় এক ঘণ্টা কমে যাবে।
ব্যয় সংকোচনের অন্যান্য পদক্ষেপ
অফিস সময় কমানোর পাশাপাশি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন—
- সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা।
- অফিসে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ।
- সরকারি যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং জ্বালানি খরচে কঠোর নজরদারি।
- অপ্রয়োজনীয় সভা-সেমিনার ও বিদেশ সফর সীমিত করা।
মূল তথ্যসমূহ
- অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে।
- ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে, আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
- জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যয় সংকোচনই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ।
অফিস সময় কমানো হলে কর্মঘণ্টা কিছুটা কমে যাবে, যা উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার মনে করছে, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
এছাড়া, অফিস সময় কমানো হলে কর্মীদের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। যানজট কমবে, কর্মীরা পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারবেন। তবে বেসরকারি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারে।


