TT Ads

দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ রেমিট্যান্স যেন নতুন উচ্চতায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাস ও এগারো দিনে (জুলাই-১১ মার্চ) প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।

মার্চের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে যেন জোয়ার এসেছে। ১ থেকে ১১ মার্চ মাত্র ১১ দিনে দেশে এসেছে ১৯২ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (১৩৩ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি। আর ১১ মার্চ একক দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার— যা একদিনের রেমিট্যান্স আদায়ের হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছরের এই অগ্রগতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য সুসংবাদ। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-মার্চ) রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৯৮২ কোটি ডলার। সেই তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার চোখে পড়ার মতো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার মধ্যেও প্রবাসীরা বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা রেখেছেন। ডলারের দাম বাড়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এখন আগের চেয়ে বেশি লাভজনক, যা এই প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন সহজ হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সম্প্রসারণ রেমিট্যান্স প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর প্রচেষ্টা এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে কম সময়ে, কম খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন।”

মার্চের প্রথম ১১ দিনে ১৯২ কোটি ডলার আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আগে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে প্রবাসীরা বেশি করে টাকা পাঠান, যা মার্চ-এপ্রিলে রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি নিশ্চিত করে। ২০২৫ সালের মার্চেও ১১ দিনে ১৩৩ কোটি ডলার এসেছিল; এবার সেই অঙ্ক ৪৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ২৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। মার্চের প্রথম ১১ দিনে যোগ হয়েছে আরও ১৯২ কোটি ডলার। ফলে মোট রেমিট্যান্স এখন ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই গতি অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *