নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার ঢাকায় আয়োজিত এক নীতিসংলাপে তিনি এই অপতৎপরতাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য অপতথ্য বা ‘ডিজইনফরমেশন’-কে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) আয়োজিত ‘মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুল আলম এই ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেন।
আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা দেখছি একটি বিশেষ মহল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বয়ান তৈরি করছে। এই চক্রের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আইটি সেল এবং ভারতের মূলধারার প্রভাবশালী কিছু গণমাধ্যম।”
প্রেস সচিব তার বক্তব্যে ভারতের গণমাধ্যমগুলোর অপেশাদার আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আনন্দবাজারের মতো পত্রিকা, যা কি না ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা দৈনিক, তারাও বাংলাদেশ নিয়ে ডাহা মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ভারত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের বানোয়াট খবর ছড়িয়ে বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের অনেক বড় পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ নিয়ে একটিও ইতিবাচক বা সঠিক খবর পরিবেশন করেনি। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল প্রমাণ করা এবং একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।


