অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা থমকে আছে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচিত নতুন সরকারের হাতে এ সম্পর্ক আবার মসৃণ হয়ে উঠবে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, এতে সন্দেহ নেই। আমরা তাদের সাথে ‘গুড ওয়ার্কিং রিলেশন’ চেয়েছিলাম। এখানে সফল হয়েছি, তা বলতে পারি না। কারণ সম্পর্কটা থমকে আছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। ভারত তাদের স্বার্থ চিন্তা করেছে, আমরাও আমাদের স্বার্থ চিন্তা করেছি। দুই পক্ষের নিজস্ব স্বার্থের ধারণায় তফাৎ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এগোতে পারিনি।”
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই ঢাকা ভারতের সঙ্গে ‘ভালো কর্মক্ষম সম্পর্ক, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থ’-এর ওপর জোর দিয়েছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন। সরকারের অভ্যন্তরে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি থেমে গেছে। এটাকে তিনি ‘বড় সংকট’ না বলে ‘এগোতে না পারার সময়কাল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
২০২৪ সালের আগস্টের পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য ভারসাম্য, তিস্তা পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, যোগাযোগ প্রকল্প (যেমন বিবিআইএন), সংখ্যালঘু সুরক্ষা—এসব ইস্যুতে দুই দেশের অগ্রাধিকার মেলেনি। তবু উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সম্পর্ক ভেঙে পড়েনি, শুধু স্থবির হয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, “পরবর্তী সরকার নিশ্চয়ই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘মসৃণ’ করবে।”
আরও পড়ুনঃ এদেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: টাঙ্গাইলে তারেক রহমান
একই মতবিনিময়ে তিনি অন্যান্য ইস্যুতেও কথা বলেন। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা না পাওয়ার জন্য ‘সিস্টেম’কে দায়ী করেন তিনি। বলেন, “পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে এই দায় স্বীকার করতে রাজি না আমি। এটা দেশের দায়, পুরো সিস্টেমের দায়।” জালিয়াতি ও কাগজপত্রের অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, “আমরা যতক্ষণ ঘর না গোছাব, এই সমস্যার সমাধান হবে না। আরও দুঃসময়ও আসতে পারে।”
চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব চুক্তি করছে, সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা নয়, বরং কাজ সহজ করে দিচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবেন।”


