TT Ads

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সোমবার সাফ জানিয়েছেন, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দাম এক ফোঁটাও বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সাম্প্রতিক কয়েকদিনের সরবরাহ ঘাটতির পেছনে আতঙ্কিত ভোক্তাদের অতিরিক্ত কেনাকাটাকেই দায়ী করেছেন মন্ত্রী, যা সাময়িক চাপ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভোজ্যতেল আমদানিকারক, পরিশোধনকারী কোম্পানি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সরবরাহ চেইন, মজুতের পরিমাণ, আমদানি পরিস্থিতি এবং বাজারের বর্তমান চিত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, দেশে সয়াবিন, পাম এবং অন্যান্য ভোজ্যতেলের মজুত এখন স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকায় আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “কয়েকদিন ধরে বাজারে যে অস্থিরতা দেখা গেছে, তার মূল কারণ আতঙ্ক। অনেকে অতিরিক্ত কিনে মজুত করেছেন, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কোনো সংকট নেই।” তিনি ভোক্তাদের আহ্বান জানান, আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক কেনাকাটা করতে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজার মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫-৭ টাকা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বোতলজাত তেলের সরবরাহও কিছুটা কম ছিল। কিন্তু মন্ত্রী এসবকে সাময়িক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দাম না বাড়িয়ে সরবরাহ বাড়াবেন।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। এ সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মন্ত্রী বলেন, সরকার এবার কোনো ছাড় দেবে না। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকি চালানো হবে।

**মূল তথ্যসমূহ:**
– **মন্ত্রীর বক্তব্য:** ভোজ্যতেলের মজুত পর্যাপ্ত, দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না।
– **বৈঠকের তারিখ:** সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
– **সংকটের কারণ:** আতঙ্কিত ভোক্তাদের অতিরিক্ত কেনাকাটা, সাময়িক স্থানীয় চাপ।
– **সরকারি পদক্ষেপ:** বাজার মনিটরিং জোরদার, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
– **আশ্বাস:** আগামী কয়েক দিনে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
– **বাজারের বাস্তবতা:** খোলা তেলের দাম সামান্য বেড়েছে, বোতলজাতে সরবরাহ কম ছিল।

এই আশ্বাস ভোক্তাদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, বিশেষ করে রমজান ও ঈদের মৌসুমে যখন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তবে সরকারের কথা যাতে বাস্তবে রূপ নেয়, তার জন্য কঠোর তদারকি এবং ব্যবসায়ী-ভোক্তা উভয়ের সহযোগিতা জরুরি। যদি আতঙ্কের বদলে যৌক্তিক কেনাকাটা হয় এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তাহলে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল থাকবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

(শব্দ সংখ্যা: প্রায় ৫৫০)

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *